সার্ক পুনর্জীবনের পথে: প্রধানমন্ত্রীর ইফতারে আঞ্চলিক মিলনমেলা
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক (সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওনাল কোঅপারেশন) দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এই জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ এবং আফগানিস্তান। ২০০৭ সালে আফগানিস্তান অষ্টম সদস্য হিসেবে যুক্ত হওয়ার পর সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালে। এরপর থেকে আর কোনো শীর্ষ সম্মেলন না হওয়ায় সার্ক মূলত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।
ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠার পটভূমি
সার্কের ধারণা নিয়ে আসেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের চিঠি লিখে এই আঞ্চলিক জোট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। সেই উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে ১৯৮৫ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা। ১৯৮৭ সালের ১৭ জানুয়ারি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সার্ক সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং নেপালের রাজা বীরেন্দ্র বীর বিক্রম শাহ দেব এটি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ তিনবার সার্কের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছে এবং বর্তমানে এই পদে রয়েছেন বাংলাদেশের মো. গোলাম সারওয়ার।
প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের পর থেকেই সার্ককে পুনরায় সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) তার আমন্ত্রণে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এই উদ্যোগের বাস্তব রূপ দেখা গেছে। ইফতার অনুষ্ঠানে সার্ক সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিকরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক টেবিলে মিলিত হন। উপস্থিত ছিলেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী, ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জি, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এবং শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত ধর্মপাল বীরাককোডি সহ তাদের সহধর্মিণীরা।
চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অবস্থা
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বসহ আঞ্চলিক মতপার্থক্যের কারণেই সার্ক ঝিমিয়ে গেছে। শীর্ষ সম্মেলন বন্ধ থাকলেও সদস্য রাষ্ট্রগুলো তাদের বার্ষিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধ করছে এবং নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং ভারতে সার্কের আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভারতের আপত্তির কারণে ইসলামাবাদে অবস্থিত সার্ক এনার্জি সেন্টার স্থবির হয়ে আছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্ক সচল করার বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংস্থার মহাসচিব মো. গোলাম সারওয়ারের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে কীভাবে গতিশীল করা যায়, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতিতে ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং জিয়াউর রহমানের ধারণায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সার্কের পুনর্জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



