জামায়াত ইসলামী মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করবে, ইতিবাচক দিক গ্রহণ করবে
ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে আলোচনা শেষে নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বাসায় পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াত ইসলামী প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার ঘোষণা
জামায়াত ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনা করে দেখবে বলে জানিয়েছে। দলটি ওই চুক্তির ইতিবাচক বিষয়গুলো মেনে নেবে এবং বাকিগুলো বাদ দেবে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পল কাপুরের সঙ্গে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যার মধ্যে এই চুক্তি পর্যালোচনা একটি প্রধান বিষয় ছিল।
বিনিয়োগের আহ্বান ও রাজনৈতিক অবস্থান
জামায়াত ইসলামী যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। দলটি বলেছে, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক ও সহায়ক রয়েছে। এই আহ্বানটি মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
সংসদে ভূমিকা ও সহযোগিতা
পল কাপুর সংসদে সরকার দলীয় ও বিরোধীদলীয় দলের অংশগ্রহণ নিয়ে জানতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে জামায়াত ইসলামী স্পষ্ট করে বলেছে যে, সংসদে দলটি গতিশীল ভূমিকা রাখতে চায় এবং জনগণের স্বার্থরক্ষা হয় এমন বিষয়ে জামায়াত সংসদে কথা বলবে। এ ছাড়া ইতিবাচক সব বিষয়ে সরকারকে সহায়তা করবে দলটি।
ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে আলোচনা
বিরোধী দল বা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হবে কিনা এ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। জামায়াত ইসলামী বিষয়টিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে, যা সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা জোরদার করতে পারে।
আলোচনায় উপস্থিত জামায়াত নেতৃবৃন্দ
পল কাপুরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা মীর আহমেদ বিন কাসেম। এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
এই সাক্ষাৎটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। জামায়াত ইসলামীর এই পদক্ষেপ বিরোধী দল হিসেবে তাদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক এজেন্ডা স্পষ্ট করে তুলেছে।



