ইরান হামলায় দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারে দেরিতে যুক্তরাজ্যের প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষ
ইরান হামলায় দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারে দেরিতে ট্রাম্পের অসন্তোষ

ইরান হামলায় দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারে যুক্তরাজ্যের দেরিতে ট্রাম্পের অসন্তোষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলায় ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে যুক্তরাজ্যের দেরির জন্য প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানে হামলার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চাইলেও লন্ডন তাৎক্ষণিকভাবে সম্মতি দেয়নি।

যুক্তরাজ্যের সীমিত অনুমতি ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া

রোববার (১ মার্চ) গভীর রাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার ঘোষণা করেন, মার্কিন বাহিনীকে দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে এই অভিযান কেবল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হবে, যা একটি সীমিত অনুমতির ইঙ্গিত দেয়।

এ বিষয়ে ডেইলি টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, "আমাদের দুই দেশের মধ্যে সম্ভবত এমন পরিস্থিতি আগে কখনও ঘটেনি। মনে হচ্ছে তিনি (স্টারমার) বৈধতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। অনুমতি দিতে অত্যন্ত বেশি সময় নেওয়া হয়েছে।" তার এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের সতর্ক অবস্থানের প্রতি সরাসরি সমালোচনা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দিয়েগো গার্সিয়ার কৌশলগত গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক ভূমিকা

ভারত মহাসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক বিভিন্ন অভিযানে এই ঘাঁটি ব্যবহারের নজির রয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে এর অপরিহার্যতাকে তুলে ধরে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্যকেই সামনে এনেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন ও সামরিক বৈধতার প্রশ্নে লন্ডনের সতর্ক অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সাময়িক অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে, যা দুই মিত্র দেশের মধ্যে বিরল একটি ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক জোটগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার জটিলতা এবং বৈশ্বিক সংঘাতের সময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতিশীলতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।