গাজীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শোক গোপালগঞ্জে, দাফনের প্রস্তুতি
গাজীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ড: গোপালগঞ্জে শোকের মাতম

গাজীপুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের পাঁচ জনের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে। নৃশংস ঘটনাটির ঘাতকের বাড়িও একই জেলায়। ঘটনার পর থেকে শুধু নিহতদের বাড়ি নয়, গোটা গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম। পাগলপ্রায় পরিবারের সদস্যরা। ময়নাতদন্ত শেষে গাজীপুর থেকে লাশ গোপালগঞ্জে আসার কথা রয়েছে। সেজন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে কবর।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ছেলে, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফিরোজা বেগম (৬০)। বুক চাপড়ে বিলাপ করে তিনি শুধু বলছিলেন, ‘আমার বাবারে মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার ধনডারে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো রে আল্লাহ...।’ সন্তান ও নাতনিদের হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন ফিরোজা বেগম।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার বাজান গতকাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাসায় গেছে। কে জানতো, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া! আমার রসুল, আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে...।’ এ কথা বলেই আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পাশে থাকা স্বজনরা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু যার ওপর এত বড় শোকের ভার পড়েছে তাকে কি আর আটকানো যায়?

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শনিবার (৯ মে) ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই ঘরে পাঁচ জনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), ছেলে রসুল মোল্লা (১৮) এবং শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত ও ফিরোজা দম্পতির চার মেয়ে ও তিন ছেলের (সাত ছেলে মেয়ের) মধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় ও রসুল মোল্লা সবার ছোট। বড় মেয়ে বিয়ের কয়েক বছর পর অসুখে মারা যান। এখন একসঙ্গে দুই সন্তানকে হত্যা করা হলো। নিহত শারমিন ও রসুলের চাচা খবির মোল্লা বলেন, বাবা-মায়ের সামনে সন্তানদের মেরে ফেললে বাবা-মা কীভাবে বেঁচে থাকে। আমার ভাই গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। অনেক কষ্ট করে অভাব-অনটনের মধ্যে দিয়ে সন্তানদের বড় করেছে। রসুল মোল্লা গাজীপুরে একটি পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি করতো। থাকতো বড় বোন ফাতেমার বাসায়। গতকাল রসুল শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টায় মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সবাই ভেবেছিল ফোনে হয়তো চার্জ নেই। ভোর সাড়ে ৫টায় জামাইয়ের (ফোরকান মোল্লার) ভাই জব্বার মোল্লা কল করে বলেন, শারমিনের বাসার সবাই মারা গেছে। কীভাবে মারা গেলো জানতে চাইলে সে বলে, তার ভাই তাদের কল করে জানিয়েছে, ‘পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফ্যালাইছি, আমাকে খুঁজলে আমাকে পাওয়া যাবে না’ বলে ফোন কেটে দেয়।

তিনি আরও জানান, সন্তান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ, সেই সন্তানকে বাবা হয়ে কীভাবে মারতে পারে? সে কি মানুষ? ওই খুনির সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছি। জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে সামাজিকভাবে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে বসবাস করছিলেন। ফোরকান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন। খবির মোল্লা জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ আনা হলে পাইকান্দি গ্রামে দাফন করা হবে।