তাইওয়ানের আশঙ্কা ট্রাম্পের চীন সফরে কৌশলী তৎপরতা চালাতে পারে বেইজিং
তাইওয়ানের আশঙ্কা ট্রাম্পের সফরে কৌশলী তৎপরতা চালাতে পারে চীন

আগামী ১৪ থেকে ১৫ মে চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাইওয়ান ইস্যুতে চীন কিছু 'কৌশলী তৎপরতা' চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তাইওয়ান। দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

তাইপের নিবিড় পর্যবেক্ষণ

তাইওয়ানের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর মহাপরিচালক সাই মিং-ইয়েন সাংবাদিকদের বলেন, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো 'পরিচালনা করা', মৌলিক সমস্যার সমাধান নয়। তাইওয়ান ইস্যুতে তিনি বলেন, 'আমার মনে হয়, আলোচনার সময় চীনা কমিউনিস্টরা কিছু কৌশলগত তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করতে পারে।' তাইপে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বা কৃষিপণ্য কেনে এবং অর্থনৈতিক চাপ কমায়, তবে তার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তাইওয়ান নীতিতে কোনো শিথিলতা আসে কি না।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তাদের তাইওয়ান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আসন্ন ট্রাম্প-শি বৈঠক 'এক-চীন নীতি' এবং তিনটি যৌথ ইশতেহার মেনে অনুষ্ঠিত হবে। তাইওয়ান ইস্যুতে আগের মার্কিন প্রশাসনগুলোর দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চীনের কঠোর অবস্থান

লিন জিয়ান আরও বলেন, 'তাইওয়ান প্রশ্ন চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তির মূল অংশ। জাতীয় ঐক্য ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীনের অবস্থান অটল।' তিনি সতর্ক করে বলেন, 'তাইওয়ানের স্বাধীনতা'পন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি—এ দুটি সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, তাইওয়ান নিয়ে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র চায় না। তিনি বলেন, 'তাইওয়ান সবসময় আলোচনায় থাকে। আমি নিশ্চিত, এবারও এটি আলোচনায় আসবে। উভয় দেশই বোঝে, ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা কারও স্বার্থে নয়।' রুবিও আরও জানান, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বা তাইওয়ান ঘিরে কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি কোনো পক্ষই চায় না।

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা

বর্তমানে তাইওয়ান নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বেইজিং গণতান্ত্রিকভাবে শাসিত এই দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড দাবি করে আসছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে সামরিক চাপও বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের টানাপোড়েন চলছে। ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।