ইরান সংঘাত নিয়ে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অবশেষে মুখ খুলেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার ‘পূর্ণ সমন্বয়’ রয়েছে এবং প্রায় প্রতিদিনই তাদের কথা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাংবাদিক জুলিয়ান বরগার লিখেছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গণমাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিল যে, ইরান সংঘাত নিয়ে আলোচনায় আগের মতো ইসরায়েলকে আর পরামর্শ করা হচ্ছে না। এমনকি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি আলোচনাতেও দেশটির সম্পৃক্ততা কমেছে বলে দাবি করা হচ্ছিল।
এই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর ‘সবকিছু ঠিক আছে’ ধরনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক ও জরিপ বিশ্লেষক ডালিয়া শেইন্ডলিন বলেন, সম্পর্ক কতটা ভালো, সে বিষয়ে তিনি এত বেশি কথা বলছেন যে এতে বরং সম্পর্কের মধ্যে কতটা উত্তেজনা আছে, তা নিয়েই আমার উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য মূলত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রয়োজন থেকেই এসেছে। দেশটির সরকার ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার প্রভাব ও গুরুত্ব বজায় রাখতে চায়। তবে বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে ইসরায়েলের ভূমিকা আগের তুলনায় কমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ইরান সংঘাতের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্কের এই টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্য সম্পর্কের প্রকৃত অবস্থা ঢাকার চেষ্টা মাত্র।



