বাংলাদেশ সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি শুক্রবার (৮ মে) বিকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আলোচনা হয়। উভয় মন্ত্রী আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন স্বার্থের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বিচারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেন।
মানবপাচার ও অভিবাসন
মানবপাচার (টিআইপি) এবং অভিবাসীদের অবৈধ চোরাচালান (এসওএম) প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পাচারকারী চক্র দমনে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
আইনি সহায়তা ও প্রত্যর্পণ
ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে 'মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস' (এমএলএআর) চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়। সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়, যাতে অপরাধীরা বিচার এড়াতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে যেতে না পারে।
প্রশিক্ষণ ও সাইবার নিরাপত্তা
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে আধুনিক পুলিশিং ও অপরাধ তদন্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন দুই মন্ত্রী।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।
খসড়া চুক্তি ও বন্দি বিনিময়
সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, চোরাচালান এবং দলিলাদি জালিয়াতি রোধে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বাংলাদেশ বর্তমানে এ খসড়াটি পর্যালোচনা করছে। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশকৃত তিনজন পাকিস্তানি বন্দির মুক্তির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য প্রেরিত নথির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও বৈঠকে আলোচনা হয়।
উপস্থিত কর্মকর্তারা
বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



