তামিলনাড়ুর সরকার গঠন ঘিরে চলমান রাজনৈতিক নাটকীয়তায় নতুন মোড় এসেছে। রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকার এখনও নিশ্চিত নন যে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের কাছে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে আগামীকাল শনিবার (৯ মে) তার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। খবর এনডিটিভি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্ক
রাজ্যপালের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। কিন্তু বিজয় সেই সমর্থনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি। সূত্রগুলোর দাবি, তামিলাগা ভেট্রি কালাগামের (টিভিকে) পক্ষে বর্তমানে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে দুই কম।
শুক্রবারের বৈঠক
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তিনি দাবি করেন, তার পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে রাজ্যপালের দপ্তরের মতে, ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনপত্র তিনি জমা দিতে পারেননি। পরে আইইউএমএল আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, তারা টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়।
নির্বাচনে চমক
গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই ২৩৪টির মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে চমক দেখায় বিজয়ের দল টিভিকে। এর মধ্য দিয়ে তামিল রাজনীতিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের ৬২ বছরের আধিপত্যে বড় ধাক্কা লাগে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় শুরু থেকেই জোটসঙ্গী খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি।
পূর্ববর্তী বৈঠক
এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। কিন্তু প্রতিবারই রাজ্যপাল স্পষ্ট করে দেন, পর্যাপ্ত সমর্থনের নিশ্চয়তা ছাড়া তিনি সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন না। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে আর্লেকার নাকি বিজয়কে প্রশ্ন করেন, ‘১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে কীভাবে সরকার চালাবেন?’ পাশাপাশি ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্রও চান তিনি।
জোট সমীকরণ
টিভিকের ১০৮ আসনের সঙ্গে কংগ্রেস তাদের পাঁচ আসনের সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে শর্ত ছিল, বিজয় ও তার দল যেন বিজেপির মতো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির’ সঙ্গে জোট না করে। এর ফলে দীর্ঘদিনের মিত্র ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং দুই দল একে অপরের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তোলে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পরে ভিসিকে, সিপিআই(এম) ও সিপিআইয়ের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করে টিভিকে। তবে এই দলগুলোও আগে থেকেই ডিএমকের শরিক ছিল। একই সময়ে ডিএমকের সঙ্গে বিকল্প সরকার গঠনের পথ নিয়েও আলোচনা চলছিল বলে জানা গেছে।
অন্যান্য সমর্থন
এদিকে বিজয় আইইউএমএলের একজন বিধায়ক এবং টিটিভি দিনাকরণের আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাগামের (এএমএমকে) একমাত্র বিধায়কের সমর্থনও চেয়েছিলেন। বাম দল সিপিআই ও সিপিআই(এম) টিভিকেকে বাইরে থেকে সমর্থনের ঘোষণা দিলেও তারা মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব প্রত্যাশা করছে বলে জানা গেছে।
অচলাবস্থা ও জোট আলোচনা
এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও দুই দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পরে এমন জোটের সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান ঠেকাতেই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দ্রাবিড় দলের মধ্যে যোগাযোগের গুঞ্জন ছড়ায়।
বিজেপির অবস্থান
অন্যদিকে বিজেপি এই পুরো পরিস্থিতিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির তামিলনাড়ু শাখার মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপাথি বলেছেন, ‘এটি একটি বিভক্ত রায়। টিভিকের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। যদি বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে রাজ্যপাল সাংবিধানিকভাবেই তা মেনে নেবেন।’



