তামিল অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয় ও তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগমের (টিভিকে) উত্থান ঘিরে তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। গত পাঁচ দশকে যা প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত ছিল, সেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (ডিএমকে) এবং সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-র জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি বিজেপিও পর্দার আড়াল থেকে এই পরিকল্পনায় সমর্থন দিচ্ছে যাতে টিভিকে-র সঙ্গে জোটবদ্ধ কংগ্রেসকে ক্ষমতার বাইরে রাখা যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোটের পেছনের কারণ
সূত্রগুলোর দাবি, ডিএমকে-র উদয়নিধি স্ট্যালিনপন্থিরা আশঙ্কা করছেন, বিজয় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রন বা এমজিআর-এর আমলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারেন, যিনি জীবদ্দশায় ডিএমকে-কে ক্ষমতায় আসতে দেননি। অন্যদিকে, জয়ললিতার মৃত্যুর পর টানা চারবার নির্বাচনী পরাজয়ের পর অস্তিত্ব রক্ষায় এআইএডিএমকেও এই জোটে আগ্রহী। জানা গেছে, এই পরিকল্পনায় কংগ্রেসকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।
জোট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাম দল ও বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) সমর্থন প্রয়োজন। বিজয় ইতোমধ্যে এসব দলের সমর্থন চেয়েছেন, যদিও তারা এখনও সময় নিচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে সম্ভাব্য সমঝোতা
ডিএমকের শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কারুপা পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হবেন এবং বাইরে থেকে সমর্থন দেবে ডিএমকে। দলটির প্রবীণ অংশ, এমনকি প্রধান এমকে স্ট্যালিনের আপত্তি থাকলেও পরিকল্পনাটি এগিয়ে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শঙ্কা
সূত্রগুলোর মতে, ডিএমকের জ্যেষ্ঠ নেতারা আশঙ্কা করছেন, এমন অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরীক্ষায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আবেগপ্রবণ তামিল ভোটারদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
টিভিকের অবস্থান
এই আবেগপ্রবণ সমর্থকদের দিকেই নজর রাখছে টিভিকে। দলটি জানিয়েছে, যদি ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোট সরকার গঠনের দাবি তোলে, তাহলে তাদের ১০৮ জন বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। দলটির বিশ্বাস, এমন সিদ্ধান্ত বিজয়ের সমর্থকদের রাজপথে নামাবে।
২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে টিভিকে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি দলটি।
রাজ্যপালের ভূমিকা
টিভিকের দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত। কিন্তু রাজ্যপাল আরভি আর্লেকার বিজয়কে সরকার গঠনের দাবি জানানোর সুযোগ দেননি। তার বক্তব্য, টিভিকের প্রয়োজনীয় সংখ্যা নেই।
সূত্রগুলোর দাবি, রাজ্যপাল ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র চেয়েছেন। একাধিক রাজনৈতিক দল এ শর্তের সমালোচনা করে বলেছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা শপথের পর বিধানসভায় প্রমাণ করার বিষয়।
নির্বাচনী ফলাফল
সাম্প্রতিক নির্বাচনে এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন এবং তাদের মিত্ররা পেয়েছে ছয়টি। পিএমকে চারটি আসন জিতেছে। বিজেপি ও এএমএমকে পেয়েছে একটি করে আসন। অন্যদিকে ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি আসন। তাদের মিত্র কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটি আসন। এছাড়া আইইউএমএল, সিপিআই, সিপিআই(এম) ও ভিসিকে পেয়েছে দুটি করে আসন এবং ডিএমডিকে পেয়েছে একটি আসন। উল্লেখ্য তামিলনাড়ুর ১৬তম বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১০ মে।
সূত্র: এনডিটিভি



