তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন নিয়ে অচলাবস্থা, বিজয়কে শপথ দিতে গভর্নরের অস্বীকৃতি
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠন অচল, বিজয়কে শপথ দিতে গভর্নরের অস্বীকৃতি

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিন দিন পার হয়ে গেলেও সরকার গঠন নিয়ে কাটছে না অচলাবস্থা। রাজ্যের একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে অভিনেতা-রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়কে কেন সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না, তা নিয়ে এখন সরব রাজনৈতিক মহল। অভিযোগ উঠেছে, রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফল ও বর্তমান অবস্থা

তামিলনাড়ুর মানুষ ডিএমকে ও এআইএডিএমকে; এই দুই দ্রাবিড় দলের বলয় থেকে বেরিয়ে বিজয়ের দুই বছরের পুরোনো দল টিভিকে-কে বেছে নিয়েছেন। বিজয় ১০৮টি আসনে জিতে একক বৃহত্তম দলের মর্যাদা পেয়েছেন, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডিএমকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টির চেয়ে তার দল ১০টি আসন পিছিয়ে আছে।

রাজ্যপালের অবস্থান ও সমালোচনা

রীতি অনুযায়ী, একক বৃহত্তম দলের নেতাকে প্রথমে শপথ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো এবং পরে বিধানসভার ফ্লোরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু রাজভবন সেই পথে না হেঁটে বিজয়কে দুবার ফিরিয়ে দিয়েছে ও লিখিত সমর্থনের দাবি জানিয়েছে। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সরকার গঠনের পর যাতে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং দ্রুত ভেঙে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতেই রাজ্যপাল লিখিত সমর্থনের ওপর জোর দিয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কংগ্রেসের রাজ্য ইনচার্জ গিরিশ চোডাঙ্কর সরাসরি রাজ্যপালকে তোপ দেগেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস করে আসার অতীত ইতিহাস এবং নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহর চাপের কারণে রাজ্যপাল সংবিধান ও তামিলনাড়ুর মানুষের পরিবর্তে বিজেপির সামনে মাথা নত করছেন। এটি মোটেও সঠিক নয়।

একই সুর শোনা গেছে অভিনেতা প্রকাশ রাজের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, রাজভবন চূড়ান্ত সত্য নয়, বিধানসভাই আসল জায়গা। ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজ রাজ্যপালের নয়। বিজয়ের হাতে জনমত আছে, তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়া উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জোট গঠনের চেষ্টা ও সম্ভাবনা

টিভিকে বর্তমানে কংগ্রেসের (৫টি আসন) সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে কংগ্রেস পাশে থাকলেও সংখ্যাটি ১১৩-তে পৌঁছায়, যা ম্যাজিক ফিগার থেকে ৫টি কম। ফলে বাম দল এবং থল থিরুমাভালাভানের ভিসিকে-র সমর্থন বিজয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভিসিকে নেতা থিরুমাভালাভান জানিয়েছেন, বিজয় একটি ‘ধর্মনিরপেক্ষ সরকার’ গঠনের জন্য তাদের সমর্থন চেয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বিজয়কে শপথ নিতে দেওয়া হচ্ছে না?

এদিকে পর্দার আড়ালে ডিএমকে (৫৯ আসন) এবং এআইএডিএমকে (৪৭ আসন) জোট বাঁধার গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও আইনি প্রেক্ষাপট

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৯৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক ‘এস আর বোম্মাই’ মামলার রায় অনুযায়ী, বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা রাজভবনে আন্দাজ করার বিষয় নয়, বরং তা বিধানসভার ফ্লোরেই পরীক্ষা হওয়া উচিত।

২০১৯ সালে মহারাষ্ট্রে দেবেন্দ্র ফড়নবিশকেও একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই শপথ নিতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে সেই প্রথা মানা হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চেন্নাইয়ের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক টি আর জওহর।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যদিও গভর্নর তার বিবেচনাধীন ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায় বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে বিধানসভায়। প্রচলিত রীতি ও সংবিধানের বিচারিক ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, তামিলনাড়ুর জনগণের রায় পেয়েও বিজয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন গভর্নর। তাই তিনি বিজয়কে শপথগ্রহণের অনুমতি দিয়ে তামিলনাড়ু বিধানসভায় তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দিলেই তা যৌক্তিক হবে।