তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অভিনেতা ও টিভিকে প্রধান থালাপতি বিজয়ের শিবিরের দিকেই ঝুঁকেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। এতে দীর্ঘদিনের মিত্র কংগ্রেসের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ তুলেছে এম কে স্টালিনের দল ডিএমকে।
সরকার গঠনের দাবি ও রাজ্যপালের শর্ত
নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাতে ১১২ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে রাজভবনে গিয়েছিলেন টিভিকে প্রধান ও অভিনেতা থালাপতি বিজয়। তবে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই সংখ্যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি বিজয়কে অন্তত ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। ২৩৪ আসনের বিধানসভায় বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮টি আসন থেকে তিনি এখনো ১০টি আসন দূরে। এই অবস্থায় বিজয়কে সমর্থনের জন্য অন্যান্য দলের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিজয়ের পক্ষে কংগ্রেসের ৫ জন বিধায়ক সমর্থন দেবেন বলে তিনি মৌখিকভাবে রাজ্যপালকে জানিয়েছেন। তবে এই সমর্থন নিশ্চিত করতে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ করতে তিনি রাজ্যপালের কাছে আরও কিছুটা সময় চেয়েছেন।
কংগ্রেসের শর্ত ও ডিএমকের প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বিজয়কে সমর্থন দিচ্ছে ঠিকই, তবে শর্ত হচ্ছে জোটে এমন কোনও ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে রাখা যাবে না যারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না। সরাসরি নাম না নিলেও রাজনৈতিক মহলে একে এআইএডিএমকে-র প্রতি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যারা একসময় এনডিএ জোটের অংশ ছিল। তামিলনাড়ু কংগ্রেসের ইনচার্জ গিরিশ চোডাঙ্করের জরুরি বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিল্লিতে মল্লিকার্জুন খড়গে এবং রাহুল গান্ধীও তামিলনাড়ুর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ডিএমকে নেত্রী কনিমোঝি সোমু একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘যারা ভরসা করেছিল তাদের ছেড়ে নতুন সুযোগের পেছনে ছোটা কংগ্রেসের রক্তে রয়েছে। যে ডিএমকের ওপর ভর করে কংগ্রেস শক্তিশালী হয়েছে, আজ তারা সেই ডিএমকে-কেই চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এটি মই বেয়ে ওপরে উঠে সেই মইকেই লাথি মারার মতো ঘটনা।’ পাল্টা জবাবে কংগ্রেস নেতা কার্তি চিদাম্বরম বলেন, ডিএমকের এই অভিযোগ দুর্ভাগ্যজনক। নির্বাচন পরবর্তী জোট কীভাবে কাজ করে, তা হয়তো ডিএমকে মুখপাত্ররা বোঝেন না।
এআইএডিএমকের অবস্থান ও অন্যান্য দলের ভূমিকা
এদিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে থাকা এআইএডিএমকে-র ভেতরেও বিজয়কে সমর্থনের জন্য চাপ বাড়ছে। ২০১৯ ও ২০২৪-এর লোকসভা এবং ২০২১ ও ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে টানা হারের পর সি ভি শানমুগাম ও এস পি ভেলুমানির মতো জ্যেষ্ঠ নেতারা বিজয়কে বাইরে থেকে সমর্থনের পক্ষে সওয়াল করেছেন। বুধবার বিজয়ের দলের একটি গাড়ি এআইএডিএমকে প্রধান ই পালানিস্বামীর বাসভবনে সমর্থনের চিঠি নিয়ে গিয়েছিল। তবে কংগ্রেস সরাসরি বিজয়ের পাশে দাঁড়ানোর পর টিভিকে আপাতত এআইএডিএমকে-র সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রেখেছে বলে জানা গেছে।
কংগ্রেস এখন ডিএমকে-র অন্যান্য শরিক দল যেমন সিপিএম, সিপিআই, ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগকেও (আইইউএমএল) বিজয়ের পক্ষে টানার চেষ্টা করছে। ভিসিকে বৃহস্পতিবার একটি বৈঠক ডেকেছে যেখানে তারা সিদ্ধান্ত নেবে বিজয়ের সরকারে যোগ দেবে কি না।
শপথ অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৭ বা ৮ মে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু ইনডোর স্টেডিয়ামে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বিজয়। এই অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধী উপস্থিত থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর আগে বিজয়ের জয়ে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন রাহুল।



