ইরানের দেওয়া নতুন শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সতর্ক করে দিয়েছেন ইরান যদি কোনো ‘অসদাচরণ’ করে, তাহলে আবারও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্পের মন্তব্য
শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের প্রস্তাবের পূর্ণ বিবরণ পাঠাচ্ছে এবং তিনি তা পরে বিস্তারিত জানাবেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, গত কয়েক দশকে ইরানের কর্মকাণ্ডের তুলনায় তারা এখনো যথেষ্ট মূল্য দেয়নি, ফলে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে।
ইরানের প্রস্তাবের বিবরণ
ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ ও ফারস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। এতে সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধের কথাও উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন কাঠামো গঠনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পূর্বের প্রস্তাব নাকচ
এর আগে চলতি সপ্তাহেই ইরানের আরেকটি প্রস্তাব নাকচ করেছিলেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আবারও সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলেন, পরিস্থিতি খারাপ হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। যদিও ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও স্থায়ী সমাধানের জন্য হওয়া আলোচনা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি।
ইরানের অবস্থান
এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গরিবাবাদি বলেছেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। তারা কূটনীতির পথে এগোবে, নাকি সংঘাত অব্যাহত রাখবে—ইরান উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। যদিও তেহরান দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বৈশ্বিক প্রভাব
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত সীমিত করে রেখেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে, ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও রয়টার্স



