ফরিদপুরে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কার্যালয়ে ঢুকে সরকারি কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে কার্যালয়ের আসবাব ভাঙচুরের ঘটনায় আটক যুবকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জেলা বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। গত বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে বিআরটিএ কার্যালয় থেকে অভিযুক্ত যুবক জনি বিশ্বাসকে (২৯) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
আসামির পরিচয় ও পটভূমি
মামলার আসামি জনি বিশ্বাস নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এক মাস ধরে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া শুরু করেছেন। ২০২৪ সালে ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মুখপাত্র আবরাব নাদিম বলেন, জনি বিশ্বাস ফরিদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ওই আন্দোলনের পরে সম্মিলিতভাবে আর কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। এ কারণে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে নানাবিধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন, অনেকেই পথভ্রষ্ট হয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিআরটিএ ফরিদপুর সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন পোর্টালে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার বেলা একটার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন জনি বিশ্বাস এবং নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। মেহেদী হাসান তাঁর সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে জনি বিশ্বাস ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে জনি টেবিলের ওপর থাকা স্ট্যাপলার মেশিন দিয়ে সজোরে আঘাত করে টেবিলের ওপরের গ্লাস ভেঙে ফেলেন এবং কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ সময় অফিসের কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতারা এগিয়ে এসে জনিকে আটকে রাখেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
মামলা ও গ্রেপ্তার
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, জনির বিরুদ্ধে প্রতারণা করে অন্য কারও পরিচয় ধারণ, ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি কর্মকর্তাকে ভয় দেখিয়ে কাজ প্রভাবিত করা, সম্পত্তির ক্ষতি করা, হুমকির অভিযোগেসহ ছয়টি ধারায় মামলা হয়েছে। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জনিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



