রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে। তিনি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। তার পুরো নাম খন্দকার নাঈম আহমেদ। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর তিনি জামিনে বের হয়ে আর আদালতে হাজিরা না দিয়ে পলাতক ছিলেন।
পুলিশের বক্তব্য
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, পুলিশের একাধিক ইউনিট তাকে গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
টিটনের অপরাধজীবন
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টিটন মূলত ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তিনি আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের শ্যালক। ইমন টিটনের ছোট বোন নীলাকে বিয়ে করেছেন। মূলত ইমনের দাপটেই তিনি অপরাধ জগতে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। দুই যুগ কারাবন্দী থাকার পর ২০২৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জামিন পান। কিন্তু আইনি জটিলতায় কারামুক্তি হয়নি।
এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি এবং বর্তমানে পলাতক ছিলেন। তার অনুপস্থিতির কারণে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলা ও পুরস্কার
টিটনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল টিটন তাদের অন্যতম। টিটন দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের কারণ
পুলিশের ওই সূত্রটি বলেছে, আন্ডারওয়ার্ল্ডের অন্য কোনও সন্ত্রাসীর সঙ্গে আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই হত্যা হয়ে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত করে এখনই বলা ঠিক হবে না বলেও জানান তারা। কী কারণে হত্যাকাণ্ড, কার সঙ্গে বিরোধ— সব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পর পাওয়া যাবে বলেও জানানো হয়।



