ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সামনে এবার কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে জোট বেঁধেছেন তার দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেত ও ইয়ার লাপিদ। বিশ্লেষকদের অনেকে হাঙ্গেরিতে ভিক্টর অরবানকে ক্ষমতা থেকে সরানো ডান-মধ্যপন্থি জোটের সঙ্গে এই নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের তুলনা করছেন।
নতুন জোট 'টুগেদার'
রবিবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত ও ইয়ার লাপিদ তাদের দল বেনেট ২০২৬ এবং ইয়েশ আতিদ একীভূত করার ঘোষণা দেন। বেনেত জানিয়েছেন, নতুন এই দলের নাম হবে ‘টুগেদার’ এবং তিনিই এর নেতৃত্ব দেবেন। তিনি বলেন, ৩০ বছর পর ইসরায়েলের জন্য নতুন একটি অধ্যায় খোলার সময় হয়েছে। লাপিদ বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একজোট হয়েছি। ইসরায়েল রাষ্ট্রের এখন দিক পরিবর্তনের প্রয়োজন।’
গাদি আইজেনকোটের সম্ভাব্য যোগদান
তারা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোটকেও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আইজেনকোট আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার কথা না জানালেও নতুন এই জোটকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘সামনের কঠিন নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যটি আমাদের সবার অভিন্ন।’ সোমবার আইজেনকোট বেনেতকে ভবিষ্যতের কার্যক্রম সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন।
জরিপে সম্ভাবনা
জরিপ অনুযায়ী, এই তিন দল একজোট হলে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে সবচেয়ে বড় গ্রুপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। মারিভ পত্রিকার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বেনেতের দল ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি সমান ২৪টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি ইয়েশ আতিদ ৭টি ও ইয়াশার ১২টি আসন পেতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লাপিদের সঙ্গে জোটের ফলে বেনেত হয়তো লিকুদ পার্টির অনেক ভোটারকে হারাতে পারেন, কারণ এদের অনেকেই লাপিদের বিরোধী।



