ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা
মোজতবা খামেনির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। গত ৮ মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

শারীরিক অবস্থা কেমন?

নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে বিমান হামলায় আলী খামেনি এবং মোজতবা খামেনির স্ত্রী ও সন্তান নিহত হন, সেই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন। তার একটি পায়ে তিনবার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কৃত্রিম পা স্থাপনের অপেক্ষায় আছেন। একটি হাতের কার্যক্ষমতা ফেরাতেও অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার মুখ ও ঠোঁট মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি মানসিকভাবে যথেষ্ট সচেতন ও সক্রিয়।

গোপন আস্তানা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ইসরাইলি গোয়েন্দা যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য মোজতবা খামেনিকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কর্মকর্তারাও নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে যাতায়াত করছেন না। ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, যিনি নিজে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী, মোজতবার চিকিৎসার সরাসরি তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কেন জনসমক্ষে আসছেন না?

সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবা খামেনি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন। কোনো অডিও বা ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেননি। স্বশরীরে প্রকাশ্যে না আসার মূল কারণ হলো, তিনি অসুস্থ বা দুর্বল অবস্থায় জনগণের সামনে আসতে চান না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যোগাযোগের সেকেলে পদ্ধতি

মোজতবার সঙ্গে যোগাযোগের পদ্ধতি বেশ সেকেলে ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার উদ্দেশ্যে পাঠানো বার্তাগুলো প্রথমে হাতে লিখে খামে সিলগালা করা হয়। তারপর বিশ্বস্ত কুরিয়ারদের একটি চেইনের মাধ্যমে হাইওয়ে ও অলিগলি পেরিয়ে মোটরসাইকেল বা গাড়িতে করে বার্তাগুলো তার আস্তানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বিষয়ে তার পরামর্শ বা সিদ্ধান্তগুলোও একইভাবে ফেরত আসে।

সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বৃদ্ধি

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোজতবা খামেনির অসুস্থতা ও নিরাপত্তার কারণে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ইরানের শাসনব্যবস্থায় সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা মূলত আইআরজিসি জেনারেলদের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে।