ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ নিরসনে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির।
পাকিস্তান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত শুক্রবার সকালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে আরাগচির ফলপ্রসূ টেলিফোন সংলাপের পরেই এই সফরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
দ্বিপাক্ষিক সফর ও পরবর্তী পরিকল্পনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আরাগচির এই সফরটি বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ের। তিনি ইসলামাবাদে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার পর মস্কো ও মাস্কাট সফর করবেন। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বরফ গলার ‘উচ্চ সম্ভাবনা’ তৈরি হয়েছে।
পূর্ববর্তী আলোচনা ও নৌ-অবরোধ
এর আগে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রথম দফার আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার পর ১৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেন। এর জবাবে ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দিলে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। ইরান শর্ত দিয়েছিল যে অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রস্তুতি
শুক্রবারের কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে উভয় পক্ষই পুনরায় টেবিলে ফিরতে আগ্রহী। এর প্রস্তুতি হিসেবে চলতি সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৯টি বিমান যোগাযোগ সরঞ্জাম ও কারিগরি কর্মীদের নিয়ে ইসলামাবাদে অবতরণ করেছে।
ইসলামাবাদের জনজীবনে প্রভাব
এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে ইসলামাবাদের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর ‘রেড জোন’সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ বিচারপ্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং স্কুল-কলেজগুলো অনলাইনে কার্যক্রম চালাতে বাধ্য হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই পরিস্থিতির অবসান চেয়ে দ্রুত আলোচনার সফল সমাপ্তি কামনা করছেন।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব
পাকিস্তানের জন্য এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বৈশ্বিক দরবারে দেশটির কূটনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইএমএফ-এর ঋণ ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা
তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পরমাণু কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো এখনও আলোচনার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সব মিলিয়ে, আরাগচির এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আলজাজিরা।



