ল্যাভরভের অভিযোগ: ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই
ল্যাভরভ: ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র অভিযোগ: ইরানকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ অভিযোগ করেছেন যে ইরানকে বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও অস্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন, কখনো চাপ প্রয়োগ, আবার কখনো আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তব কোনো সমাধান নিয়ে স্পষ্ট আলোচনা হয়নি। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মস্কোয় আল-বাওয়ারের সঙ্গে বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে ল্যাভরভ এই অভিযোগ তুলে ধরেন।

ইরানের অবস্থান বুঝতে পারে রাশিয়া

ল্যাভরভ তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, রাশিয়া ইরানের অবস্থান পুরোপুরি বুঝতে পারে। তার মতে, ইরান যথার্থভাবেই মনে করে যে অতীতেও তারা এমন প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়েছে। এই মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের জটিল প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

যুদ্ধবিরতি মেয়াদ শেষ ও আলোচনা ভেস্তে যাওয়া

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা আলোচনার আয়োজন করে পাকিস্তান। তবে শেষ পর্যন্ত ইরান প্রতিনিধিদল না পাঠানোয় বৈঠকটি সম্পূর্ণভাবে ভেস্তে যায়। ল্যাভরভ জানান, পাকিস্তানে সম্ভাব্য এই আলোচনা নিয়ে রাশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একাধিকবার মোড় নিতে পারে। তার মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ২০১৫ সালের মতো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে, তাহলে তা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির পটভূমি

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামে একটি পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করতে সম্মত হয়, বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে ২০১৬ সালে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেন। এর ফলে চুক্তিটি কার্যত ভেঙে পড়ে এবং অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

দৃশ্যমান অগ্রগতির অভাব

ল্যাভরভের ভাষায়, বর্তমানেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নানা ইঙ্গিত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তিনি পরিস্থিতি তুলে ধরেন এভাবে: “হুমকি ও প্রতিশ্রুতি আছে, কিন্তু বাস্তব ফল নেই।” এই মন্তব্য শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক কূটনীতির চিত্রও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সালের চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে নতুন কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়া ও চীনের মতো শক্তিধর দেশগুলোর ভূমিকা—সব মিলিয়ে একটি অত্যন্ত জটিল কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা

এমন অবস্থায় নতুন কোনো চুক্তি হলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। ল্যাভরভের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান সংকটপূর্ণ মুহূর্তে একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে আসছে।