মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক: গম আমদানি ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারীর সঙ্গে এক শুভেচ্ছা সাক্ষাৎ করেছে। এই বৈঠকে উভয় পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি এবং আরও বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে গভীর আলোচনা করেছে।
গম আমদানি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ
বৈঠকে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী তার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গমের জাহাজগুলি সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছেছে। তিনি এই সফল বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, "এই সময়োপযোগী সরবরাহ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।"
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া ও সহযোগিতার আশা
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষভাবে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ প্রচারের উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, "বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সুবিধা অর্জন করতে পারি।"
গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জি২জি) ব্যবস্থায় গম আমদানি
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই একটি গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট (জি২জি) ব্যবস্থার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি শুরু করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭০০,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি গম আমদানি করা হয়েছে। এই আমদানি প্রক্রিয়া বাংলাদেশের খাদ্য মজুত ও মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল-ইকোনমিক কাউন্সেলর এরিক গিলান, ইকোনমিক অফিসার রিচার্ড রাসমুসেন, খাদ্য সচিব ফিরোজ সরকার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি এই আলোচনাকে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করে তুলেছে।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বিশেষ করে কৃষি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন খাতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।



