জমি বিরোধে হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড
জমি বিরোধে হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

জমি বিরোধে হত্যা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের সাত বছরের কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের তারাকান্দা পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থী ইকবাল হত্যার ঘটনায় আদালত সাত জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং দুই জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে ময়মনসিংহ জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক জাকির হোসেন দণ্ডপ্রাপ্তদের উপস্থিতিতে এ আদেশ ঘোষণা করেন।

মামলার পটভূমি ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে জমি নিয়ে পূর্ববর্তী বিরোধের জেরে ময়মনসিংহের তারাকান্দার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের ছেলে শাহীনুর আলম ইকবালকে হত্যা করা হয়। ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা ইকবালের মরদেহ একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকে পুঁতে রাখে এবং সন্দেহ দূর করার জন্য তার ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে গাছ লাগিয়ে দেয়। ইকবাল নিখোঁজ হলে তার বড় ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে তারাকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ঘটনার পাঁচ দিন পর দুর্গন্ধে সন্দেহ হলে অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে সেপটিক ট্যাংক থেকে ইকবালের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের রায় ও দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকা

আদালতে তদন্ত, ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, যুক্তি-তর্ক ও শুনানি শেষে বিচারক জাকির হোসেন এ রায় দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জন হলেন:

  • গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে ইউনুস আলী ওরফে ইন্নস আলী (৬২ বছর)
  • তার ভাই মোহাম্মদ আলী (৫২ বছর)
  • গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১ বছর)
  • শামছুল হক (৪৪ বছর)
  • গোলাম হোসেনের ছেলে আসিফ রানা নাঈম (২৪ বছর)
  • হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুল হেলিম (৫১ বছর)
  • মোহাম্মদ আলীর ছেলে ফরিদ আহমেদ ওরফে বাবু (১৯ বছর)

সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জন হলেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  1. মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী খালেদা আক্তার (৪৯ বছর)
  2. গোলাম হোসেন ওরফে গুলুর স্ত্রী রেহেনা খাতুন (৪৮ বছর)

দণ্ডপ্রাপ্ত দুই জনকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান।

মামলার প্রক্রিয়া ও সামাজিক প্রভাব

এই মামলাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে জমি বিরোধ একটি সাধারণ সমস্যা হিসেবে দেখা দিলেও এর ফলাফল মারাত্মক রূপ নিয়েছে। আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকটি উল্লেখযোগ্য, বিশেষ করে তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত রায় দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ইকবালের পরিবার ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে।

ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকায় এই ঘটনা সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছে, যেখানে জমি বিরোধের মতো বিষয়গুলো শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের গুরুত্ব উঠে এসেছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ রোধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।