পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল, বিজিবি-জনতার প্রতিরোধের গল্প
পুশইন নিয়ে আবিদুলের পোস্ট ভাইরাল, বিজিবি-জনতার প্রতিরোধ

ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান সীমান্তে ভারতের পুশইন-কাণ্ড নিয়ে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকালে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি সীমান্তে ঘটে যাওয়া এক নীরব বিপ্লবের বর্ণনা দিয়েছেন।

পুশইন চেষ্টার ঘটনাপ্রবাহ

আবিদুলের মতে, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে নিয়মিত পুশইনের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে, যাতে ২০০-এরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। প্রতিটি ঘটনার পেছনে আলাদা গল্প রয়েছে।

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত

ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০-৩৫ জনকে একটি প্রিজনভ্যানে করে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং পুশইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিএসএফ বাধ্য হয়ে মানুষগুলোকে ভ্যানে তুলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লালমনিরহাটের ঘটনা

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে রাতের অন্ধকারে ৩০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সীমান্ত পাহারা জোরদার করে সবগুলো চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

পঞ্চগড়ের শূন্যরেখায় আটকে থাকা

পঞ্চগড়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-শিশুসহ একটি দলকে শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, বিএসএফও ফিরিয়ে নেয় না। ফলে এই মানুষগুলো ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে জিরো লাইনে আটকে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিরোধের চরিত্র

আবিদুলের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হচ্ছে না তা হলো এই প্রতিরোধের চরিত্র। এই প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এই প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে। বিজিবি গ্রামবাসীদের সঙ্গে যৌথ টহল দিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। বিজিবিও তার পুরোনো শক্তি ও মনবল ফিরে পেয়েছে। নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি মেগাফোন, সার্চলাইট আর শিস ব্যবহার করে রাতভর পাহারা দিচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা

পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ টহল চলছে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন

আবিদুলের ভাষ্যে, এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে বিগত সরকারের আমলের দূর্বলতার ইতিহাসে এমন সাহসিকতার নিদর্শন নতুন করে শক্তি যোগায়। বর্তমানে বিজিবি ২৬টি জেলার সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে এবং চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে বলছে এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ বহিষ্কার, কিন্তু কোনো উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের বেলায় সীমান্তে লাইট নিভিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মানুষ ঠেলে দেওয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বলা যায় না।

সীমান্তে এই মুহূর্তে যা ঘটছে তা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বিজিবির জওয়ানরা, আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।