ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের পাকিস্তান সম্পর্কে কড়া মন্তব্য
ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের পাকিস্তান সম্পর্কে কড়া মন্তব্য

ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত রিউভেন আজার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় ইসরাইল পাকিস্তানকে বিশ্বাস করে না। আজার অভিযোগ করেন, পাকিস্তান বিভিন্ন সময়ে ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্য করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

আস্থার সংকট ও আব্রাহাম অ্যাকর্ডস

সাক্ষাৎকারে আজার মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, অতীতে পাকিস্তানের কিছু অবস্থান ও বক্তব্য ইসরাইলের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। বিশেষ করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তিতে পাকিস্তানের যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। আজার বলেন, পাকিস্তান এখনো এই অঞ্চলে ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করে না। ফলে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে কোনো উদ্যোগের আগে এ বিষয়ে তাদের অবস্থানে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

পাকিস্তানের অবস্থান অপরিবর্তিত

অন্যদিকে, পাকিস্তান আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে তারা ইসরাইলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ কথা জানান। পাকিস্তান দূতাবাসে সাংবাদিকদের সামনে দার নিশ্চিত করেন, ফিলিস্তিন ও গাজার চলমান সংকট নিয়ে ইসলামাবাদের মূল নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি জানান, সপ্তাহের শুরুতে জাতিসংঘে আলোচনার সময়ও এই একই অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ট্রাম্পের আহ্বানের জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দারের এই বক্তব্য মূলত সেই আহ্বানের সরাসরি জবাব। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হলে ইসরাইলের ব্যাপারে পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান বদলাবে না।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যস্থতার চেষ্টা করে আসছে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় এখনো একটি সর্বাত্মক সমঝোতা চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি ইসলামাবাদ।