সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ার কারণ হিসেবে আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের খুঁজে না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (৩ জুন) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ এবং মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের রোমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তদন্তে ধারাবাহিকতার অভাব
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, মামলার বর্তমান তদন্তকারী টাস্কফোর্স আগের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্ধান পাচ্ছে না। এছাড়া ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত ও নথিপত্রের একটি অংশও তাদের হাতে পৌঁছেনি। ফলে তদন্তে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং নতুন তদন্ত দলকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতা নেই। ঘটনার পর যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ক্রাইম সিনে কাজ করেছিলেন, তাদের অনেককেই এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।” তবে এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
পরিবারের প্রতিক্রিয়া
এ সময় মেঘ তার বাবা-মা হত্যার বিচার দাবি করলে অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে আশ্বস্ত করেন। এদিকে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, অতীতে সংগৃহীত কিছু জবানবন্দি ও গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএ রিপোর্ট এখনো নথিভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে করা হয়েছিল। তদন্তের অগ্রগতির তথ্য পরিবার ও জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হলে মামলাটি নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দীর্ঘ ১৪ বছরেও বিচার মেলেনি
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। উচ্চ আদালতের নির্দেশে প্রায় এক বছর আগে গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সও এখন পর্যন্ত মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।



