ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীনেশ ত্রিবেদী নিজ দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনতথ্য বিভাগ জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকের প্রেক্ষাপট
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সীমান্ত বরাবর নিরাপত্তা সমন্বয় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় দেশই বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় অতিক্রম করছে, যেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি বলেন, “তারা তাদের নাগরিকদের নিয়ে কী করবে, তা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। আমাদের এখানে কোনো বক্তব্য নেই।” তিনি আরও জানান, অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা তাকে আইনিভাবে ফেরত চাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করেছি, এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে আমরা তাকে ফেরত চাই এবং চাই তিনি মামলার মুখোমুখি হন।” তিনি সরকারের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিবর্তন
এএনআই-এর মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতির একটি রূপান্তরমূলক পর্যায়কে নির্দেশ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক ‘অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক স্বার্থের দিকে’ এগিয়ে যাচ্ছে বলে বার্তা সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।
এই অগ্রগতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জটিল পর্যায় অতিক্রম করছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ই অগ্রগামী পথ তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইঙ্গিত দেয়।



