অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজাগাম (এআইএডিএমকে)-এর যে সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়ক সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন, তাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে শরিক দলগুলোকে নিশ্চিত করেছে মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়ের দল তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে)। বামপন্থী দলগুলো এবং বিদুতলাই চিরুতাইগল কাটচি (ভিসিকে)-এর আপত্তির মুখে বুধবার (২০ মে) এই নিশ্চয়তা দিল দলটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।
জল্পনার পর অবস্থান স্পষ্ট
টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন দেওয়া এআইএডিএমকে-র একাংশের বিধায়কদের আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে মন্ত্রী পদের পুরস্কার দেওয়া হতে পারে এমন জল্পনার পর দলটির পক্ষ থেকে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বড় ধরনের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে কংগ্রেস দুটি মন্ত্রিত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিভিকের সাধারণ সম্পাদক আধব অর্জুন বলেন, খুব শিগগিরই মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ঘোষণা দেবেন এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির বিষয়ে দল উন্মুক্ত রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান
আধব জানান, বিজয় মূলত সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো দলগুলোকে সরকারে জায়গা দিতে চান; বিশেষ করে কংগ্রেসকে, যারা টিভিকে-র নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন করেছে। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যেন কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়। তিনি আরও বলেন, বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারে বামপন্থী দলগুলোর সিদ্ধান্তকে টিভিকে শ্রদ্ধা জানায়। তবে একই সঙ্গে ভিসিকে এবং আইইউএমএল-কে মন্ত্রিসভার অংশ হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান তিনি।
মন্ত্রিসভার আকার ও সমীকরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩৪ জনে উন্নীত হতে পারে। জোটের প্রতিশ্রুতি এবং জাতিগত ও আঞ্চলিক সমীকরণ রক্ষা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো টিভিকে নিজের হাতেই রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। চেন্নাইয়ের রাজভবনে অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকর তাদের পদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
নতুন সরকারের প্রস্তুতি
গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন বিজয়। এন আনন্দ, আধব অর্জুন এবং কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ানসহ ৯ জন মন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। নতুন গঠিত এই সরকার আগামী সপ্তাহগুলোতে তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিধানসভা অধিবেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি নেওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



