যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির জেরে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। এই সংকটের মধ্যেই বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তার এই প্রস্থান স্টারমারের নেতৃত্বকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পদত্যাগপত্রে ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তিনি ‘আস্থা হারিয়েছেন’। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সম্মান ও নীতির’ জায়গা থেকে তাঁর পক্ষে সরকারে থাকা আর সম্ভব নয়।
স্ট্রিটিংয়ের মতে, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে লেবার পার্টির নির্বাচনি বিপর্যয় মূলত সরকারের ওপর জনগণের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন। শীতকালীন জ্বালানি ভর্তুকি কাটছাঁট এবং স্টারমারের সাম্প্রতিক বিতর্কিত বক্তৃতার মতো সিদ্ধান্তগুলো এই জনরোষের প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের সমালোচনা করে স্ট্রিটিং লিখেছেন, ‘যেখানে আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন ছিল, সেখানে এখন কেবল শূন্যতা। আর যেখানে দিকনির্দেশনা প্রয়োজন ছিল, সেখানে আমরা লক্ষ্যহীনভাবে ভেসে বেড়াচ্ছি।’
স্ট্রিটিং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি আগামী সাধারণ নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখবে না। তিনি দলকে ব্যক্তিগত রেষারেষির ঊর্ধ্বে উঠে নীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক একটি উন্মুক্ত নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের আহ্বান জানান।
গত সপ্তাহেই স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয় লেবার পার্টি। এরপর থেকে বেশ কয়েকজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। লেবার পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নগুলোও স্টারমারের নেতৃত্বের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবার পার্টির মধ্য-ডানপন্থি ধারার শক্তিশালী নেতা হিসেবে পরিচিত স্ট্রিটিং নিজেই হয়তো স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন। দলের নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে হলে অন্তত ৮১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।
তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট জানিয়েছে, কিয়ার স্টারমার কোনোভাবেই সরে দাঁড়াবেন না এবং যেকোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে তিনি প্রস্তুত।



