তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ ঠিকমতো সামলানো না গেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীনা প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেছেন।
তাইওয়ান ইস্যুতে দীর্ঘদিনের বিরোধ
স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে বরাবর দাবি করে আসছে চীন। এটা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। কেননা, তাইওয়ানের অস্ত্রের অন্যতম যোগানদাতা ওয়াশিংটন। বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির নেতাদের দুদিনের এ শীর্ষ সম্মেলন বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক বাণিজ্য আলোচনার প্রশংসা করেন।
ট্রাম্পের চীন সফর
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে চীনের মতো প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী দেশে ট্রাম্পের এ সফর বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে বেইজিং সফরে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছালে শি জিং পিং তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ট্রাম্পকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। শিশুরা ফুল আর চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নেড়ে অতিথিকে বরণ করে নেয়। পরে শুরু হয় বৈঠক।
ট্রাম্পের প্রশংসা
এ সময় ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, ‘আপনি একজন মহান নেতা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমার মুখে এ কথাটা শুনতে পছন্দ করে না। তবু আমি বলি।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘অনেকে বলছেন, এটি হয়তো এ-যাবৎকালের সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন হতে চলেছে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ‘আপনার সঙ্গে থাকতে পারাটা সম্মানের। আপনার বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হতে চলেছে।’
শি জিং পিংয়ের বক্তব্য
এর আগে শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধন করে ট্রাম্পকে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্য ইতিবাচক। তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা সহযোগিতা করি, উভয়পক্ষ লাভবান হয়। যখন আমরা পরস্পরের মুখোমুখি হই, উভয়পক্ষই ক্ষতির শিকার হয়।’
বাণিজ্য ও ইরান প্রসঙ্গ
ব্যবসা-বাণিজ্যের একদল শীর্ষ ব্যক্তিত্বকে সঙ্গে নিয়ে চীন সফরে গেছেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যে টিম কুক, ইলন মাস্ক, জেনসেন হুয়াং রয়েছেন। তারা দুই বিশ্বনেতার বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতে মার্কিন শিল্প খাতের জন্য চীনকে ‘উন্মুক্ত’ করে দিতে শি জিং পিং-এর প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প। বাণিজ্যের পাশাপাশি ট্রাম্প ইরান ইস্যুতেও শি জিং পিং-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে সম্মত হতে ইরানকে বোঝানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং-এর প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানান। বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, তেহরানকে চাপে ফেলতে কিংবা ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে সি চিন পিং ইচ্ছুক হবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



