সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেনের দাবি জানানো জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যকে ওয়াশিং মেশিন দিতে চেয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই আগ্রহের কথা জানান তিনি।
প্রসঙ্গ
বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান এমপিদের ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ফ্ল্যাটের দরজা–জানালায় পর্দা লাগানোরও দাবি জানান।
পার্থের সমালোচনা
সংসদ অধিবেশনে এ প্রসঙ্গের সমালোচনা করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘কাল সংসদ থেকে যাওয়ার পরে আমি অনেক টেলিফোন পাই।’ একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, “জামায়াত এমপি ডিমান্ডস ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ, অ্যান্ড কার্টেইনস ইন এমপিস ফ্ল্যাটস”-এটা আমাকে অনেক লজ্জা দেয়। আমি মনে করি, এই পার্লামেন্টকেও অনেক লজ্জা দেয়।’
পার্থের প্রস্তাব
তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যেহেতু মন্তব্য করেছেন উনি চান, আমি ওনাকে বিব্রত না করে...আগামীতে যদি ওনার পর্দা আর মাইক্রোওয়েভ লাগে, আমি আমার তরফ থেকে ওনাকে একটা মাইক্রোওয়েভ দিতে চাই। এবং আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করতে চাই, যেন ওয়াশিং মেশিনটা উনি দেন। হোম মিনিস্টার থাকলে আমি বলতাম, উনি যদি পর্দাটা কিনে দিয়ে ওনার সংসারটা আমরা গুছিয়ে দিতে পারতাম। তারপরও যদি পার্লামেন্টকে উনি ইমব্যারাস (বিব্রত) না করতেন।’
পার্থের আগের মন্তব্য
এর আগে পার্থ বলেছেন, ‘একজন সংসদ সদস্য এখানে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলবে। যেখানে জনগণের বিভিন্ন দাবির কথা বলবে। সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে ওয়াশিং মেশিন পেল না মাইক্রোওয়েভ পেল না কার্টেইন পেল সে ব্যাপারে কথা বলবেন! যেখানে বলা হয়, আমরা গাড়ি নেব না, প্লট নেব না।’
স্পিকারের বক্তব্য
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডারের মধ্যে পড়ে না। দ্বিতীয়ত, যে সদস্য বাজেট সেশনের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেছেন। বাজেট সেশন এমন একটি সেশন, সেখানে অনেক বিষয়ে বক্তব্য রাখা যায়। তা ছাড়া একজন সদস্য তার সুবিধা-অসুবিধার কথা বলেছেন। আমি মনে করি, এটা সংসদে না বললে ভালো হতো। কিন্তু এটা বলে এমন কোনো গর্হিত অপরাধও তিনি করেননি।’



