সংসদে প্রশ্নোত্তর টেবিলে দেওয়ায় সংসদ সদস্যের তীব্র ক্ষোভ
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব মৌখিকভাবে না নিয়ে কেবল টেবিলে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।
জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা না হওয়ার ফলে সংসদ সদস্যরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং মন্ত্রীদের জবাবদিহি এড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফাংশনাল পার্লামেন্টের জন্য মন্ত্রীদের সরাসরি প্রশ্ন করা এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে তারকা চিহ্নিত প্রশ্নগুলো শুধু টেবিলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে মন্ত্রীরা মন্ত্রণালয় থেকে লিখিত উত্তর দিচ্ছেন। এতে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ থাকছে না।
কার্টুন শেয়ার ও গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন
বক্তব্যের এক পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি কার্টুন শেয়ার করার দায়ে হাসান ইনাম নামক এক ব্যক্তির গ্রেফতারের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “হাসিনা আমলেও কার্টুন শেয়ার বা কটূক্তির জন্য গ্রেফতার করা হতো। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়েও এমনটা ঘটবে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ধারা মূলত যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রযোজ্য, কিন্তু একটি মিম শেয়ার করার মধ্যে যৌন নির্যাতন কোথায়? তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মত দমনের জন্য এই আইন ব্যবহার করা হচ্ছে এবং জামিনও দেওয়া হচ্ছে না।
স্পিকার ও চিফ হুইপের প্রতিক্রিয়া
হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী অধিকারের প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য দুই ঘণ্টা আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তিনি এটি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন।
পরবর্তীতে চিফ হুইপ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “তার বা সরকারের সমালোচনা করে কার্টুন আঁকার কারণে যদি কাউকে গ্রেফতার করা হয়ে থাকে, তবে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত।” প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে তিনি ব্যাখ্যা দেন, বিরোধীদলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ৫০ ঘণ্টা আলোচনার প্রস্তাব করেছেন, কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ১২ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ শেষ করতে হলে সময় কম থাকায় প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সদস্যরা যদি রাত ১০টা পর্যন্ত সংসদ চালাতে একমত হন, তবে তারা জবাবদিহিতে বিশ্বাসী।
আইনের নিজস্ব গতি
হাসান ইনামের গ্রেফতার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ আরও বলেন, তিনি নিজে এবং তার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য কুৎসা ও মিথ্যা প্রচারণার কারণে জিডি করিয়েছেন। তিনি বলেন, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি কেবল কার্টুন নয়, অন্য কোনও সাইবার অপরাধ বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো বিষয়ের সঙ্গে জড়িত কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। যদি তিনি কেবল রাজনৈতিক স্যাটায়ার বা কার্টুন এঁকে থাকেন, তবে আমার কোনও অভিযোগ নেই। কিন্তু যদি অন্য কোনও অপরাধের প্রমাণ থাকে, তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”



