এনসিপিতে তিন দল ও প্ল্যাটফর্মের ৪৪ নেতার যোগদান
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন—এই তিনটি রাজনৈতিক দল ও প্ল্যাটফর্মের মোট ৪৪ জন নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এই যোগদানের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন সংগঠনটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের দায়িত্ব সম্পর্কে দ্রুত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
নাহিদ ইসলামের স্পষ্ট ঘোষণা: ফ্যাসিবাদী ও দুর্নীতিবাজদের স্থান নেই
এনসিপিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কারও সাবেক পরিচয় মুখ্য নয় বলে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদল হোক, ছাত্রশিবির হোক, ছাত্র অধিকার পরিষদ, এমনকি ছাত্রলীগ হোক—তার সাবেক পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য নয়।’ তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, কোনো ফ্যাসিবাদে অংশগ্রহণকারী, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, গণহত্যাকে সমর্থনকারী, চাঁদাবাজ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বা সন্ত্রাসী ব্যক্তি কখনোই এনসিপিতে আসতে বা থাকতে পারবে না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবে গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে এবং যেভাবে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সন্ত্রাসে সারা দেশ ছেয়ে যাচ্ছে, এখানে আমাদের একটি বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে হবে।’
ব্রডার অ্যালায়েন্স গঠনের আহ্বান
নাহিদ ইসলাম জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পক্ষের তরুণদের জন্য ‘ব্রডার অ্যালায়েন্স’ বা বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘তারা যে প্ল্যাটফর্মেই থাকুক না কেন, আমরা তাদের এনসিপিতে যোগদানের আহ্বান জানাচ্ছি। যারা রাজনীতির বাইরেও একত্রে কাজ করতে চান, তাদের সঙ্গেও আমরা কাজ করতে চাই। আমাদের একটা ব্রডার অ্যালায়েন্স বা কোয়ালিশন এই মুহূর্তে প্রয়োজন। কারণ, আমরা দেশটাকে নতুন করে আবার আগের বন্দোবস্তে ফেরত যেতে দিতে পারি না।’ তিনি যোগ করেন যে, এনসিপিতে যোগদান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং প্রতি সপ্তাহেই এ ধরনের কর্মসূচি থাকবে।
যোগ দেওয়া নেতাদের তালিকা ও পটভূমি
এনসিপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:
- এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হক
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন
- আপ বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, প্রধান সমন্বয়কারী রাফে সালমান রিফাত ও মুখপাত্র শাহরীন ইরা
উল্লেখ্য, জুনায়েদ ও রাফে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। অন্যান্য যোগদানকারীদের মধ্যে আয়মান রাহাত, হাসান তানভীর, তানভীর আহম্মেদ কল্লোল, এস এম সুইট, ওয়াহিদ আলম, জাহিদুর রহমান, মো. জসীম উদ্দীন, মো. মোশারফ হোসেন, সুলতান মারুফ তালহা, তৌফিক মাহমুদ, ফারহানা শারমিন সূচি, সাজ্জাদ সাব্বির, মো. রায়হানুল ইসলাম, আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, আহমেদ করিম চৌধুরী, দিলারা খানম, কাজী সালমান, সোয়েব হাসান রায়ান, মো. সোয়েব হাসান, মুরাদ হোসেন, আবু সাঈদ মোহাম্মদ নোমান, ফায়াজ শাহেদ, মো. ইমাম উদ্দিন রিয়াদ, মোস্তফা কামাল মাহাথির, আরাফাত-ই-রাব্বি প্রিন্স, কাজী আহনাফ তাহমীদ, মো. শামীম, বদরে আলম শাহীন, মো. নাজমুল হক, মাসুমা বিল্লাহ সাবিহা, ফারজানা আক্তার, তাওহীদুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), রাকিবুল ইসলাম (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), সাদাফ মুহতাসিম প্রান্তিক (নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়), মহিউদ্দিন হাসান, মো. নুরুল হাসান ও আল মাহমুদ রয়েছেন।
নাহিদ ইসলামের আশাবাদ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নাম ঘোষণার পর যোগ দেওয়া নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির নেতারা। তিনি জানান, যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই আপ বাংলাদেশের নেতা-কর্মী ছিলেন, পাশাপাশি এবি পার্টি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বাইরে থেকেও কিছু ব্যক্তি স্বতন্ত্রভাবে যুক্ত হয়েছেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে যারা যোগ দিচ্ছেন, তারা আমাদের থেকে খুবই আলাদা ছিলেন, এ রকম নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চেষ্টা করলেও সবাই একই লক্ষ্যে কাজ করেছেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আপ বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা জেলায় জেলায় একইভাবে এনসিপিতে যুক্ত হয়ে যাবেন, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



