স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের স্বচ্ছ জীবন: ঢাকায় নিজের বাড়ি নেই, বাবার ফ্ল্যাটেই বসবাস
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনে নিজের অনীহা ও সততার একটি বিরল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি ঢাকা শহরে নিজের কোনো বাড়ি করতে পারেননি। বর্তমানে তিনি এখনো বাবার রেখে যাওয়া ফ্ল্যাটেই বসবাস করছেন।
ভোলায় গণসংবর্ধনায় স্পিকারের স্বচ্ছতার ঘোষণা
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিনে স্পিকার হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আয়োজিত এক গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবনের স্বচ্ছতা তুলে ধরে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন বলেন, "আমি পানিসম্পদ মন্ত্রী থাকাকালে সর্বপ্রথম তজুমদ্দিন শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে সিসি ব্লক দিয়েছি। আমরা কখনোই লুটপাট কিংবা দখলদারিত্বের রাজনীতি করিনি। তার প্রমাণ হলো, আজ এত বছর রাজনীতি করার পরও ঢাকা শহরে আমার নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই; আমি এখনো আমার বাবার ফ্ল্যাটেই থাকি।"
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে নৈতিকতার পাঠ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ পাঠ দিয়ে বলেন, "আওয়ামী লীগ গত দেড় দশকে সীমাহীন লুটপাট করেছে। আমরা যদি কোনো অপকর্ম করি, তবে সাধারণ মানুষ আমাদেরও তাদের মতোই ভাববে। সুতরাং কোনোভাবেই সেই মাফিয়া গোষ্ঠীর মতো হওয়া যাবে না। জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে।"
তজুমদ্দিন ও লালমোহনের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা
তজুমদ্দিন ও লালমোহনের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, "স্পিকারের হয়তো প্রশাসনিক বিশাল কোনো ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই পদের অনেক সম্মান আছে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সেই সম্মানের আসনে বসার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি স্পিকার হই আর যাই হই, দিনশেষে আমি আপনাদেরই সংসদ সদস্য।"
বিগত সরকারের সমালোচনা ও ভবিষ্যতের প্রত্যয়
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "এক সময় মাফিয়া গোষ্ঠী অপপ্রচার চালিয়েছিল যে আমি নাকি মনোনয়নই পাব না। কিন্তু এ দেশের মানুষ সেই মাফিয়া সরকারকে বিদায় করে দেশপ্রেমিকদের পথ সুগম করেছে। আমরা আর গুম-খুনের সেই অন্ধকার বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই না।"
উপজেলা প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন তজুমদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি এলাকার স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের আশ্বাস দেন এবং এলাকার টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্পিকারের এই স্বচ্ছ বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্বকে তুলে ধরেছে।



