সংসদে ফোনে কথা বলায় ডেপুটি স্পিকারের সতর্কতা
জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে সদস্যদের মোবাইল ফোনে আলাপ করার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে সংসদকক্ষে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তিনি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন।
চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ
ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ডেপুটি স্পিকার বলেন, "আপনার মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অনেক সংসদ সদস্য সংসদের ভেতর থেকে ফোনে কথা বলছেন। আওয়াজ এ পর্যন্ত আসছে। যারা বক্তব্য রাখছেন বা শুনছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে এটি ডিস্টার্ব হচ্ছে। আপনি যদি বিষয়টি একটু দেখতেন।"
চিফ হুইপের প্রতিক্রিয়া ও নিয়মের স্মরণ
নুরুল ইসলাম সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, "আপনি এ কথাটি বলেছেন এবং সবাই তা শুনেছেন। বিষয়টি মনে হয় এখানেই নিষ্পত্তি হতে পারে।" তিনি আরও যোগ করেন, "মাননীয় সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করছি, হাউসের ভেতর আর কেউ যেন ফোনে কথা না বলি। কথা বলতে হলে আমরা বাইরে গিয়ে বলব।"
চিফ হুইপ আরও বলেন, "আমরা কথা বলছি এবং সেই শব্দ স্পিকারের কান পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাই আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। আর একটি বিষয়, ফ্লোর ক্রস করা। স্পিকারের সঙ্গে কোনো সদস্য কথা বলার সময় তার মাঝখান দিয়ে কেউ আসা-যাওয়া করবেন না। রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী এটিই নিয়ম। যদি কেউ আসতে চান, তবে পেছন দিয়ে ঘুরে আসবেন। ফোনের ব্যাপারটিও মনে রাখবেন এবং হাউসের ভেতর কেউ ছবি তুলবেন না।"
এই ঘটনাটি সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছে এবং সদস্যদের জন্য একটি স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে। ডেপুটি স্পিকারের হস্তক্ষেপ ও চিফ হুইপের প্রতিক্রিয়া সংসদে কর্মকাণ্ডের সময় যথাযথ আচরণ নিশ্চিত করার চেষ্টার প্রতিফলন।



