সংসদে তেল সংকট নিয়ে তীব্র অভিযোগ
জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত তিনি জ্বালানি তেলের জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, কিন্তু তেল পাননি। আজ বুধবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মর্মপীড়া প্রকাশ করেন।
মোহাম্মদ কামাল হোসেন আরও বলেন, 'তেল শুধু মহান সংসদে। এত পরিমাণ তেল এখানে অপচয় হচ্ছে, বাইরে তেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।' তাঁর এই মন্তব্য সংসদ কক্ষে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের দাবি
এই সংসদ সদস্য আরও উল্লেখ করেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, গণভোট বৈধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোট বৈধ হলে অবশ্যই সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। না হলে ১৮০ দিন পর এই সংসদ অবৈধ হয়ে যাবে।
তিনি শহীদদের স্মরণ করে বলেন, যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁদের স্লোগানে রাষ্ট্র মেরামতের কথা ছিল। শহীদেরা রাষ্ট্রকে মেরামত করতে রক্ত দিয়েছেন। সংবিধান পরিবর্তন না করে সংশোধন করা হলে রাষ্ট্র মেরামত হবে না বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন বলেন, জুলাই সনদ কোনো কথামালার রাজনীতি নয়, কোনো শব্দের সমাহার নয়। এটি বাস্তবধর্মী একটি ব্যবস্থা। এ সনদে মানুষের স্বার্থ জড়িত, আকাঙ্ক্ষা জড়িত, রক্তের অক্ষরে লেখা দাবি জড়িত। তাই এটিকে বাস্তবায়নের জন্য পদ্ধতিগত আলোচনা দরকার।
সরকারি দলের এই সদস্য আরও বলেন, 'বিরোধী দলের সদস্যরা অনেক সময় 'কানকথা'নির্ভর রাজনীতি করেন। কিন্তু আমাদের উচিত সমস্যার সমাধানের দিকে যাওয়া।'
বাক্স্বাধীনতা ও সীমারেখা নিয়ে উদ্বেগ
ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। শুধু নিন্দা জানালে হবে না। এগুলো বন্ধে আইন করতে হবে। কোনটা বাক্স্বাধীনতা, আর কোনটা অপরাধ, সেই সীমারেখা অনেকেই ভুলে যাচ্ছে।
বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। সেই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান খাল খনন বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই খাল খনন বিপ্লবকে আবার সামনে এনেছেন।
এই আলোচনাগুলো সংসদে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে জ্বালানি সংকট থেকে শুরু করে সংবিধান সংস্কার পর্যন্ত নানা বিষয় উঠে এসেছে। বিরোধী দলগুলোর সদস্যরা তাদের উদ্বেগ ও দাবিগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে।



