সংসদে জামায়াতের এমপির অভিযোগ: রাত দুইটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাইনি
ঢাকা-৫ আসন (ডেমরা-যাত্রাবাড়ী-কদমতলীর একাংশ) থেকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কামাল হোসেন সংসদে আক্ষেপ করে বলেছেন, রাত দুইটা পর্যন্ত রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ির জন্য তেল (জ্বালানি) পাইনি। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
তেল অপচয় ও সংকটের সমালোচনা
জাতীয় সংসদে রসিকতা করে কামাল হোসেন বলেন, ‘গত রাত্রে আমাকে দুইটা পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আমি তেল পাই নাই। তেল শুধু মহান সংসদে, এত পরিমাণ তেল এখানে অপচয় হচ্ছে। বাইরের তেল অলরেডি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, এখানে যত্রতত্র লিজ দেওয়া হচ্ছে, মেইন রাস্তা লিজ দেওয়া হচ্ছে। তার কারণে চাঁদা তোলা হচ্ছে এবং জানজট সৃষ্টি হচ্ছে। মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস— এখানে উন্নয়নের অন্যতম বাধা হিসেবে তিনি এগুলোকে চিহ্নিত করেন।
অন্যান্য অভিযোগ ও দাবি
কামাল হোসেন স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমি আপনার মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি— যেখানে ৭২ জন শিক্ষক দরকার সেখানে ১৪২ জন শিক্ষক কীভাবে থাকতে পারে? আমরা মনে করি উন্নয়ন কোনও দলীয় বিষয় নয়, উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের অধিকার। আমার এলাকার জনগণের অধিকার।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখার কারণে তাকে ৮৫৩ দিন জেলে থাকতে হয়েছে, নয় বার জেলে যেতে হয়েছে। দ্বিতীয়বার যেন আর এ ধরনের ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি না হতে হয়, এই কারণে তাদের গণভোটের দাবি।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের আহ্বান
কামাল হোসেন বলেন, ‘আপনারা জানেন, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ৩০ মে ১৯৭৭ সালে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ১৯৭৮ সালে সেই গণভোট আপনার সংবিধানের সামনে স্বীকৃত হয়েছে, বিএনপি গণভোট শুরু করেছে আর ২০২৬ সালে বিএনপি, আজ গণভোট অস্বীকার করছে।’ তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন গণভোট বৈধ। বৈধ যদি হয়, তাহলে অবশ্যই আপনারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। এই সংস্কার অধিবেশন ১৮০ দিন মেয়াদ। যদি এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান না করেন, আপনি (স্পিকার) আইনের অন্যতম বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। এই মহান সংসদ বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদে আহ্বান না করা হয়।



