গৃহহীন ও ভূমিহীনদের পুনর্বাসনে খাস জমি বরাদ্দের উদ্যোগ
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বুধবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার গৃহহীন ও অসহায় মানুষদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে খাস জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে, প্রকৃত ভূমিহীন ব্যক্তিরা আবেদন জমা দিলে খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বরাদ্দ নীতিমালা অনুসারে যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের জমি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাব
মন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের একটি প্রশ্নের জবাবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের চতুর্দশ দিনের সকালে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের এই পদক্ষেপ গৃহহীন জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-১৮ আসনে খাস জমির অবস্থা
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের একটি পৃথক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী জানান, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে অকৃষি খাস জমি বরাদ্দের কোনো সুযোগ নেই। সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে ঢাকা-১৮ আসনে খাস জমির পরিমাণ, বর্তমান ব্যবহার, দখলদারিত্বের অবস্থা এবং খাস জমি বরাদ্দের মাধ্যমে ভূমিহীনদের পুনর্বাসন সম্পর্কে তথ্য চেয়েছিলেন।
তিনি আরও জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, সরকার দখলকৃত খাস জমি উদ্ধারের পরিকল্পনা করেছে কিনা এবং সেগুলো রাজস্ব আদায়ে ব্যবহারের জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কিনা। ভূমিমন্ত্রীর জবাবে জানা যায়, ঢাকা-১৮ আসনে মোট খাস জমির পরিমাণ ৯২৯.৯১৪০ একর।
খাস জমির বর্তমান ব্যবহার ও শ্রেণিবিন্যাস
মন্ত্রী সংসদে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, নদীশ্রেণির জমি নদী হিসেবে, খালশ্রেণির জমি খাল হিসেবে, এবং রাস্তা ও বাজারশ্রেণির জমি যথাক্রমে রাস্তা ও বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও ড্রেন, পুকুর ও অন্যান্য শ্রেণির জমি ফাঁকা পড়ে আছে, কারণ শহর জরিপ খতিয়ানে এই খাস জমিগুলো অদখল ও দখলমুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু সম্পত্তি ভুলবশত শহর জরিপ খতিয়ানে খাস জমি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, যার ফলে এই ধরনের প্লট নিয়ে বর্তমানে চলমান দেওয়ানি মামলা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ঢাকা শহরের সমস্ত খাস জমি অকৃষি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকায় খাস জমি বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা
ভূমিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, ঢাকা শহরের এই জমিগুলো ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। উদ্ধারকৃত সরকারি খাস জমি পরিবর্তে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নগর পরিকল্পনা ও জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে।
মন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, সরকার গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকায় গৃহহীন পুনর্বাসনে সক্রিয় থাকলেও ঢাকা মহানগরীর সীমিত জমি সংকটের কারণে সেখানে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের এই পদক্ষেপ ভূমিহীন জনগণের কল্যাণ ও সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



