সংসদের 'ইভেন্টফুল' সপ্তাহ ও অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে হাছনাত আব্দুল্লাহর তীব্র সমালোচনা
সংসদের ইভেন্টফুল সপ্তাহ ও অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে হাছনাত আব্দুল্লাহ

সংসদের 'ইভেন্টফুল' সপ্তাহ ও অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে হাছনাত আব্দুল্লাহর তীব্র সমালোচনা

সংসদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে লাইভে এসে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন হাছনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, সংসদের গত সপ্তাহ ছিল "ইভেন্টফুল", যেখানে ওয়াকআউট, সংবিধান সংশোধনী নিয়ে বিতর্ক এবং একাধিক বিল উত্থাপন ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ও বারবার ওয়াকআউটের কারণ, বিল নিয়ে অবস্থান এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এসব বিষয় পরিষ্কার করতেই তিনি লাইভে আসেন বলে উল্লেখ করেন।

পুলিশ সংস্কার কমিশন নিয়ে বক্তব্য

হাছনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোর একটি, তবে তা সংসদে উত্থাপনই করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশকে জনবান্ধব ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্দেশেই এই সংস্কার প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পুলিশের পদোন্নতি ও পোস্টিং রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রিত—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার মতে, পুলিশকে সরকারের "লাঠিয়াল বাহিনী" হিসেবে ব্যবহার না করে কেবল আইন বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি ছিল।

মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গ

তিনি দাবি করেন, মানবাধিকার কমিশনের পূর্ববর্তী সংস্কার বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তার ভাষায় "কার্যত দুর্বল"। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে এবং অভিযোগ তদন্তে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির শর্ত যুক্ত হওয়ায় এর কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গুম ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত তদন্তের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন প্রভাব ফেলতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ

সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়কে স্বাধীন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সিদ্ধান্তে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, এতে বিচারকদের পদোন্নতি, পোস্টিং এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে যেতে পারে, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, নতুন অধ্যাদেশের মাধ্যমে নির্বাচিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অপসারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও দলীয়করণের দিকে ঠেলে দিতে পারে। লাইভ বক্তব্যে হাছনাত আব্দুল্লাহ সংসদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত ও একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, এসব পরিবর্তন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে এবং ওয়াকআউটের মতো ঘটনাগুলো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে। হাছনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই তার এই সমালোচনাকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছেন। তিনি শেষে বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।