গণভোটের বৈধতা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃঢ় অবস্থান
গণভোটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, 'এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ। অধ্যাদেশ জারি হয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ। গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সেটার বৈধতা আছে।' রোববার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রেক্ষাপট
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে উত্থাপন পরবর্তী বিষয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলামও বক্তব্য দেন। গণভোট নিয়ে বিরোধী দল আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে এবং এটি কেন সংসদে অনুমোদন হয়নি— এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
গণভোটের আইনি ভিত্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'এটা তো ফ্যাক্টাম ভ্যালেট, এটা ঘটনাক্রমে সিদ্ধ।' তিনি উল্লেখ করেন যে, এ বিষয়ে নতুন করে আইন করে আগামীতে এর ওপর কোনো গণভোট হবে না। ভবিষ্যতে যদি গণভোট করতেই হয়, তাহলে সেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুসারে সাংবিধানিক গণভোট হবে অথবা সংবিধানের বাইরে আলাদা আইন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, 'সুতরাং এটা হুমকি দেওয়ার কোনো বিষয় নাই। এটার বৈধতা তো আছেই। অবৈধ তো বলছি না।' সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে বিগত সরকারের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হলে সেটি বৈধ হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধী দলের হুমকি ও আদালতের ভূমিকা
বিরোধী দলের আন্দোলনের হুমকির প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোট নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
সরকার গণভোটসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে এগোচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ—বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী ক্ষমতা ও সংশোধন-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।
অতীতের গণভোট ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
এর আগেও একটি গণভোট অধ্যাদেশ জারি এবং সেই অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হয় এবং তার আইনি বৈধতা ও সাংবিধানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ কারণে ভবিষ্যতে গণভোট আয়োজন করতে হলে তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই করতে হবে। সংবিধানের বাইরে কোনো গণভোট হলে তা আইনি জটিলতায় পড়তে পারে।
সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোটের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যদি গণভোট আয়োজন করতে হয়, তাহলে তা হয় সংবিধানসম্মতভাবে, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে করতে হবে।



