সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি গ্রেপ্তার করেছে
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারের পরবর্তী অবস্থান ও তথ্য
বর্তমানে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন মামলার অধীনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে ডিবি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
সাবেক এই স্পিকারের বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রংপুরে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা সেই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য যে, এই একই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন
রাজনৈতিক কর্মজীবনে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সংসদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে টানা চারবার এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তিনি মূলত আওয়ামী লীগের টিকিটে রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
স্পিকার পদ থেকে পদত্যাগ ও পরবর্তী অবস্থা
৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্পিকারের পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরী জনসম্মুখে খুব একটা না আসলেও তার অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। এই গ্রেপ্তার সেই কৌতূহলকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ডিবি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশের রাজনৈতিক ও আইন প্রয়োগকারী মহল। এই ঘটনাটি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



