সংসদে সড়ক মন্ত্রীর জবাবে মনিরুল হকের তীব্র প্রতিক্রিয়া
জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের জবাবে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। মন্ত্রীর বক্তব্যকে 'হতাশাজনক' জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, 'আওয়ামী লীগের সময় যে উত্তর দিতো, মন্ত্রীসাব সেই উত্তরই দিয়েছেন। এই রবীন্দ্র সংগীত আমরা বহু শুনেছি।'
রোববারের সংসদ অধিবেশনে উত্তপ্ত বিতর্ক
রোববার (৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের ওপর আলোচনার সময় মনিরুল হক চৌধুরী তার ক্ষোভ জানান। তিনি সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পে আন্ডারপাস ও ওভারপাস না থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
মনিরুল হক বলেন, '২০১৪ সালের কুত্তা মার্কা নির্বাচনের সময় ব্যারিকেড দিয়ে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর বহু লোক মারা গেলেও কেউ ক্ষতিপূরণ পায়নি। মন্ত্রী বলছেন ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে—এসব সচিবদের শেখানো বুলি। যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারাই তাকে এগুলো শিখিয়ে দিয়েছে।'
মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, 'এ প্রকল্প আগে থেকে চলমান আছে। আমরা শুধু নকশা পরিবর্তন করে ও বাজেট সমন্বয় করে কাজ করতে পারছি। সরকার নতুন এসেছে। সংসদ সদস্য আমাকে যা জ্ঞাত করেছেন, সে বিষয়ে সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের পাঠিয়েছি এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি, দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাব।'
একপর্যায়ে স্পিকার মন্ত্রীর কাছে জানতে চান, এসব পদক্ষেপে মনিরুল হক চৌধুরীর সমস্যার সমাধান হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, আংশিক হবে।
কুমিল্লার সড়ক সমস্যার বিস্তারিত
জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশ প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লায় পদুয়ার বাজারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী সংযোগস্থলে 'দানবীয় ব্যারিকেড' স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া কুমিল্লার প্রবেশপথে টমছম ব্রিজসহ সাতটি স্থানে আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মিত না হওয়ায় স্থানটি 'মরণফাঁদে' পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নতুন পরিকল্পনায় ওই অঞ্চলে তিনটি আন্ডারপাস এবং পদুয়ার বাজারে আরও দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথা রয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই আলোচনা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত করে।
মনিরুল হক চৌধুরী মন্ত্রীর আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আরও বলেন, 'মন্ত্রী মহোদয় বললেন ওভারপাস হবে, এক্সপ্রেসওয়ে হবে—এ রবীন্দ্রসংগীত বহু শুনেছি। আমাদের শান্তিমতো মরতে দেন। উনার প্রতিটি কথা সচিবেরা যা বলে দিয়েছে, যারা টাকা লুণ্ঠন করেছে, তারা শিখিয়ে দিয়েছে—সেটাই তিনি বলেছেন। আমি এর প্রতিবাদ করছি।'
এই ঘটনা সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।



