আফজাল নাছেরের আদালতে মর্মস্পর্শী বক্তব্য: 'শেখ হাসিনার আমলে বৈষম্যের শিকার, কেন তাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইবো?'
আফজাল নাছের: 'শেখ হাসিনার আমলে বৈষম্যের শিকার'

আদালতে আফজাল নাছেরের তীব্র অভিযোগ: 'শেখ হাসিনার আমলে বৈষম্যের শিকার'

ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক আফজাল নাছের রবিবার ঢাকার আদালতে একটি মর্মস্পর্শী বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে তিনি নিজেই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, 'আমি কেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইবো? যেখানে তার দ্বারা আমি বৈষম্যের শিকার।'

২০০৯ সালে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতির দাবি

আফজাল নাছের আদালতকে জানান, শেখ হাসিনার সময়ে ২০০৯ সালের ৯ নভেম্বর তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই বরখাস্ত করা হয়। ২৬ বছর চাকরি করার পর তাকে এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয় এবং তিনি পেনশনও পাননি বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই ঘটনাটি তার জন্য গভীর ব্যক্তিগত আঘাত হিসেবে রয়ে গেছে।

রিমান্ড শুনানিতে আদালতে উপস্থিতি

রবিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে বিএনপিকর্মী মকবুল হত্যার অভিযোগে পল্টন মডেল থানার মামলায় রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই শুনানিতেই আফজাল নাছের তার বক্তব্য রাখেন। গত রবিবার গভীর রাতে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরদিন জুলাই আন্দোলনে নিহত দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তির মামলায় তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ৬ দিনের রিমান্ড শেষে রবিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই কফিল উদ্দিন। ওই মামলায় তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মকবুল হত্যা মামলায় রিমান্ড আবেদন

এরপর মকবুল হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের মতিঝিল জোনাল টিমের এসআই তোফাজ্জল হোসেন আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার দেখানোসহ পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। প্রথমে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেয়, তারপর রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

তিনি জানান, মকবুল হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং তদন্ত কর্মকর্তা তার পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী সর্বোচ্চ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষে শওকত উল্লাহ রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন।

আফজাল নাছেরের সরাসরি বক্তব্য

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আফজাল নাছের আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান এবং পরে অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমি ইউনাইটেড হাসপাতালে কখনও চাকরি করিনি। এটা ইউনাইটেডের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান, সিস্টার কনসার্ন। সেখানে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হয়নি। সেটা তো আমার কাজ না, সেখানকার কর্মকর্তাদের কাজ।'

তিনি আরও বলেন, 'এখন আমি আসামির কাঠগড়ায়। বিচার করেন, সঠিক বিচার। তবে সরকার যদি চায় যেকোনোভাবে ক্ষতি করতে পারে। আমি নিজেই বৈষম্যের শিকার। কেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে চাইবো? যেখানে তার দ্বারা আমি বৈষম্যের স্বীকার। সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন, আমি যদি জড়িত থাকি আমার ডাবল শাস্তি হোক। আল্লাহ বিচার একভাবে করেনি।'

তিন দিনের রিমান্ড ও কারাগারে প্রেরণ

শুনানি শেষে আদালত থেকে তার তিন দিনের রিমান্ড দেয়া হয় এবং এরপর তাকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

পটভূমি: মকবুল হত্যা মামলা

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কার্যালয়ের পাশে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আফজাল নাছেরের বর্তমান গ্রেফতার ও আদালতের কার্যক্রম এই মামলার প্রেক্ষাপটেই সংঘটিত হচ্ছে।