হাসনাত আব্দুল্লাহর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ: 'হাসিনা ছাড়া সবকিছু দরকার'
হাসনাত আব্দুল্লাহর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ

হাসনাত আব্দুল্লাহর ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ: 'হাসিনা ছাড়া সবকিছু দরকার'

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে বলেন, 'আমাদের হাসিনা ব্যবস্থার সবকিছুই দরকার, শুধু হাসিনা ছাড়া'। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

গণভোটসহ ১০ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাবের সমালোচনা

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন যে সরকার পক্ষ গণভোটসহ ১০টি অধ্যাদেশ বাতিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ সরকার পক্ষ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে'

জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া

প্রসঙ্গত, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দীর্ঘ এক বছরের আলোচনা, সংলাপ ও তর্কবিতর্কের পর রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগগুলো নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হয়, যা গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত হয়। এরপর জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়ন নির্ধারণ করে গত ১৩ নভেম্বর 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ' জারি করা হয়। এই সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নে জনগণের সম্মতি নিতে ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গণভোটে 'হ্যাঁ' জয়ী হওয়ায় 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ' অনুযায়ী, বর্তমান সংসদের সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখার কথা ছিল। সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ পঞ্জিকা দিবসের মধ্যে পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা ছিল।

সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনে বাধা

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে, নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিরা একই দিনে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সচিবালয় সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রেখেছিল। তবে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা দুটি শপথ নিলেও বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ফলে নির্ধারিত ৩০ দিন সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়নি।

হাসনাত আব্দুল্লাহর এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও সংবিধান সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনাকে আরও তীব্র করেছে।