টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি নেতা আহমেদ আযম খানের মন্ত্রী পদে শপথগ্রহণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতিতে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আযম খান মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ গ্রহণ করেছেন।
শপথ অনুষ্ঠানের সময় ও প্রেক্ষাপট
সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি সংসদ অধিবেশনের বিরতির সময় সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বয়ং তাকে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। এই নিয়োগটি এসেছে ঠিক সেই দিনেই যখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
একই দিনের সংসদ অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার পদে এবং ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাদেরও শপথ পাঠ করিয়েছেন। সংসদের নিয়ম অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারা মন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। এই শূন্যতা পূরণের জন্যই আহমেদ আযম খানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
আহমেদ আযম খানের নির্বাচনী ইতিহাস
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আহমেদ আযম খান ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর হরিণ প্রতীক নিয়ে ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট পান। এই নির্বাচনে আহমেদ আযম খান ৩৬ হাজার ৭৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
মন্ত্রণালয় বণ্টন এখনো অনিশ্চিত
যদিও আহমেদ আযম খান মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তবে এখনো তাকে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হতে পারে। এই নিয়োগটি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
এই মন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে বিএনপির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা সরকারের উচ্চপর্যায়ে দায়িত্ব পেলেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংসদ সদস্য হিসেবে তার পূর্বের কর্মকাণ্ড এবং আইন পেশায় অভিজ্ঞতা মন্ত্রী পদে তার সাফল্যের জন্য সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।



