প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা: বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আজ থেকে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে তিনি এই ঐতিহাসিক বক্তব্য শুরু করেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন ও সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য অক্লান্তভাবে লড়াই করেছেন এবং কখনোই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোস করেননি। এ সময় তিনি খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যা বিএনপির ঐতিহ্য ও সংগ্রামের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, সরকার এই সংসদকে তর্ক-বিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল-মত নির্বিশেষে তিনি দেশের সমগ্র জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতীক। তার মতে, প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য, এবং এ লক্ষ্য অর্জনে তিনি সবার সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ও ঐক্যের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন যে, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার পথে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, এবং বর্তমানে এমন কোনো বিরোধ নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। এই বক্তব্যে তিনি জাতীয় ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন, যা দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অপরিহার্য। তার ভাষণটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে, যেখানে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে।



