ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা, বিএনপির 'উদারতা' বিতর্ক
ডেপুটি স্পিকার পদে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা, বিএনপির 'উদারতা'

ডেপুটি স্পিকার পদ নিয়ে জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা, বিএনপির 'উদারতা' বিতর্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণ করা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি এই প্রস্তাবকে 'উদারতা' হিসেবে প্রচার করলেও, জামায়াত একে অনুগ্রহ বা অলংকার হিসেবে গ্রহণ করতে নারাজ। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগামীকাল বুধবার সকালে বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।

বিএনপির 'উদারতা' বনাম জামায়াতের প্রতিশ্রুতি দাবি

সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলকে দেওয়াকে বিএনপি 'উদারতা' হিসেবে দেখছে। গত শুক্রবার আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'বিরোধী দলকে লিখিতভাবে এই পদ দেওয়ার বিধান না থাকলেও বিএনপি জামায়াতকে প্রস্তাব দিয়ে উদারতা দেখিয়েছে, যা জামায়াতের গ্রহণ করা উচিত।'

তবে বিএনপির এই অবস্থানকে সান্ত্বনা হিসেবে দেখছে জামায়াত। দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও আইনজীবী শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, 'জুলাই সনদ এবং গণভোট অনুযায়ী প্রতিশ্রুত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়িত না হলে বিরোধী দল শুধু অলংকার হিসেবে ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করবে না।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি ও জামায়াতের অবস্থান

'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর ২৩ নম্বর প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে যে, আইনসভার উভয় কক্ষে সরকারদলীয় সদস্য ছাড়া অন্যদের মধ্য থেকে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা হবে। জামায়াতের ভাষ্যমতে, এই প্রস্তাবে বিএনপিও সম্মতি জানিয়েছিল এবং এটি একটি প্রতিশ্রুতি। তাই তারা মনে করছে, নিয়ম মেনেই এই পদ তাদের প্রাপ্য, দয়া করে দেওয়ার মতো কিছু নয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, এখনো তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি বা প্রস্তাব আসেনি। তিনি আরও বলেন, 'জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের যে শপথ নেওয়া প্রয়োজন, বিএনপি তা নেয়নি। আগে তাদের এ বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে।'

আগামী বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলটির সূত্রে জানা গেছে। এই বৈঠকে জামায়াতের নেতৃত্ব তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে এবং বিএনপির প্রস্তাবের উপর চূড়ান্ত মতামত দেবে।

এই বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জামায়াতের সিদ্ধান্তহীনতা এবং বিএনপির 'উদারতা' প্রচার রাজনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।