ফ্যাসিস্ট বলায় এনসিপি এমপিকে ঘেরাও, পুলিশের উদ্ধার নারায়ণগঞ্জে
ফ্যাসিস্ট বলায় এনসিপি এমপি ঘেরাও, পুলিশ উদ্ধার

ফতুল্লায় ইফতার মাহফিলে উত্তেজনা: এনসিপি এমপিকে ঘেরাও, পুলিশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে শান্ত হয়।

ঘটনার সূত্রপাত

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতের সহযোগী সংগঠন পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন এবং বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাবেক আমির মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমেদ।

হাতেম আগে এসে বসার পর আল আমিন স্টেজে না বসে সরাসরি মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, "আমি ফ্যাসিস্টের দোসরের সঙ্গে এক মঞ্চে বসব না।" এই মন্তব্যে হাতেম ইফতার বর্জন করে চলে যান এবং তার অনুসারীরা অনুষ্ঠানস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্ষোভ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

বিক্ষোভে প্রায় হাজারখানেক শ্রমিক ও সাধারণ লোকজন যোগ দেন, যা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত সোয়া আটটার দিকে পুলিশের গাড়িতে করে আল আমিনকে নিরাপদে তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন যে এমপিকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই ঘটনাকে জ্ঞানহীন কাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, হাতেম আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাবেক এমপি শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, যা জামায়াত ইসলামের নেতারা ভালো করেই জানেন। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন হাতেমকে এই মাহফিলে অতিথি করা হলো এবং এমপির আগে থেকেই অনুষ্ঠানের তালিকা জানা উচিত ছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মিডিয়া ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী, এমপি আল আমিন ও হাতেমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আল আমিনের বক্তব্য, পুলিশের উদ্ধার ও হাতেমের ইফতার বর্জনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে, যা জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এই ঘটনা রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে, যেখানে সভ্যতা ও শিষ্টাচারের প্রশ্ন উঠে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট各方 সতর্কতা অবলম্বন করবে।