জামায়াতের ডেপুটি স্পিকার পদে পাঁচ নেতার নাম, জুলাই সনদ বাস্তবায়নই মূল শর্ত
জামায়াতের ডেপুটি স্পিকার পদে পাঁচ নেতার নাম, জুলাই সনদ শর্ত

জামায়াতে ইসলামীর ডেপুটি স্পিকার পদে পাঁচ নেতার নাম আলোচনায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নই মূল শর্ত

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাঁচজন সংসদ সদস্যের নাম রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রকাশ করেন যে, বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি জামায়াতে ইসলামীকে এই পদ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই দলটির প্রবীণ ও নবীন নেতাদের নিয়ে গুঞ্জন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আইনজ্ঞ নেতাদের সম্ভাবনা জোরালো

ডেপুটি স্পিকার পদের দৌড়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, যিনি পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য। এছাড়াও সাবেক শীর্ষ নেতা মীর কাসেম আলীর সন্তান ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান, যিনি ঢাকা-১৪ আসনের প্রতিনিধি, তার নামও উল্লেখযোগ্য। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী আইনজ্ঞদের এই পদে অগ্রাধিকার দেওয়ার রেওয়াজ থাকায় তাদের সম্ভাবনা জোরালো বলে মনে করছে দলের একটি বড় অংশ।

প্রবীণ নেতাদের নামও আলোচনায়

তবে আইনজ্ঞ নেতাদের অপেক্ষাকৃত কম বয়স বিবেচনায় নিয়ে প্রবীণ নেতাদের নামও আলোচনায় রাখা হয়েছে। অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, যিনি রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেছেন। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, যিনি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিনিধি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, যিনি ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য, তার নামও প্রসঙ্গক্রমে উঠে এসেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নই মূল শর্ত

ডেপুটি স্পিকার পদ গ্রহণের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার তথা বিএনপি কতটুকু আন্তরিক, তা পর্যবেক্ষণ করছে জামায়াত। গত ১ মার্চ দলটির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত না হলে জামায়াত এই পদ গ্রহণ না-ও করতে পারে।

সংসদীয় টিমের সঙ্গে আলোচনা হবে

জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডেপুটি স্পিকার ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলের সংসদীয় টিমের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দলটির মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘ডেপুটি স্পিকার পদে কারো বিষয়ে এখনো কিছু ভাবেনি জামায়াত। সংসদীয় টিমের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ এই প্রক্রিয়াটি আরও কয়েক দিন সময় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই আলোচনা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করতে পারে। জামায়াতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।