জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের বানানিতে ২০০৯-এর বি.ডি.আর. হত্যাকাণ্ডের শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা
শফিকুর রহমানের বি.ডি.আর. হত্যাকাণ্ডের শহীদদের সমাধিতে শ্রদ্ধা

জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমানের বানানিতে ২০০৯-এর বি.ডি.আর. হত্যাকাণ্ডের শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বুধবার বানানি সামরিক কবরস্থানে গিয়ে ২০০৯ সালের বি.ডি.আর. হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি সেখানে প্রার্থনা করেন এবং শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

সমাধি পরিদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন

ড. শফিকুর রহমান দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বানানি সামরিক কবরস্থানে পৌঁছান। তিনি তখনকার বাংলাদেশ রাইফেলস (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) সদর দপ্তর পিলখানায় ২০০৯ সালের বিদ্রোহে নিহত সেনা সদস্যদের সমাধিতে ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন। দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা উত্তর সিটি ইউনিটের আমীর মো. সেলিম উদ্দিনসহ জামায়াতের বানানি ও গুলশান থানা ইউনিটের নেতা-কর্মীরা তার এই সমাধি পরিদর্শনে সঙ্গ দেন।

শহীদ পরিবারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য

শহীদ সেনা সদস্যদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে ড. শফিকুর রহমান বলেন, “২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় এক পরিকল্পিত ঘটনায় ৫৭ জন বীর সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তারা ছিলেন দেশপ্রেমিক এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করি এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ তায়ালা আপনাদের সবাইকে ধৈর্য দান করুন।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার দাবি

এই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, জাতি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি সেনা কর্মকর্তাদের নির্মম হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে চায়। তিনি তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী দায়ীদের নাম প্রকাশ এবং তাদের আইনানুগভাবে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ড. রহমান আরও বলেন, “তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত ‘বি.ডি.আর. তদন্ত কমিশন’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী যাদের দায়ী পাওয়া গেছে, তাদের নাম প্রকাশ করে দ্রুত গ্রেফতার ও আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন।

জাতীয় সম্পদ হিসেবে শহীদদের স্মরণ

ড. শফিকুর রহমান শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের “জাতির অমূল্য সম্পদ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এই বীরদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে একটি গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে, যা জাতি কখনো ভুলবে না। তিনি শহীদ পরিবারদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের সহ্যশক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।

এই সমাধি পরিদর্শন ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, যারা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। ড. রহমানের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি সংবেদনশীল বিষয়ে তার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তোলে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।