শেরপুরে জামায়াতের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা: বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ
শেরপুরে জামায়াতের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে জামায়াতের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা: বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় আদালতের নির্দেশ

শেরপুরের ঝিনাইগাতী আমলি আদালতে জামায়াত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলো শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় গত ২৮ জানুয়ারি সংঘটিত একটি সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।

সংঘর্ষের পটভূমি ও মামলা দায়ের

ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

এ ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলার শালচুড়া গ্রামের আমজাদ ও ভারুয়া গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত বাদী হয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইগাতী সিআর আমলি আদালতে সিআর-৬১ ও সিআর-৬২ নাম্বারে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার বিবরণ ও আসামিদের তালিকা

মামলায় শ্রীবরদী উপজেলার পশ্চিম তাঁতীহাটি এলাকার মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে আজহারুল ইসলাম মিস্টারকে (৫০) প্রধান আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলায় মোট ২৪৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ৮০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

এর আগে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যা মামলায় নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বেগম বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর ২৩১ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। তবে ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেলসহ অধিকাংশ নেতাকর্মী উচ্চ আদালত থেকে জামিনপ্রাপ্ত হয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও আদালতের নির্দেশ

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত থেকে জেনে গেছি থানাকে মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নির্বাচন স্থগিতের প্রসঙ্গ

উল্লেখ্য, শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল ৪ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করলে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

মামলাগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই মামলাগুলো আগামী দিনে শেরপুরের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।