জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নবনির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে ৪৯ জন শপথ নিয়েছেন। রবিবার (৩ মে) জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ, তৃতীয় তফসিলের ৫ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৫ বিধি অনুযায়ী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি।
আইনি জটিলতায় একজনের শপথ স্থগিত
তিনি জানান, সংবিধানে নারীদের অধিকার সংরক্ষণ ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ৫০ জন নারী সদস্যের শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও আজ ৪৯ জন সদস্য শপথ নিয়েছেন। একজন সদস্য নির্ধারিত সময়ে কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আজ শপথ নিতে পারেননি। তবে আদালতের রায় তার পক্ষে আসায় দ্রুতই তিনি শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নারী এমপিদের ভূমিকা ও দায়িত্ব
নবনির্বাচিত এই নারী সংসদ সদস্যরা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং অভাব দূর করতে ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। সংসদে নারীদের এই অংশগ্রহণ সেই কাজকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে।’
বর্তমানে তাদের (নারী এমপি) কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই এবং সংবিধানেও সেটি নির্ধারণ করা হয়নি উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, তারা মূলত জাতীয় পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবেন এবং জাতিকে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে অবদান রাখবেন। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ তদারকি এবং নারীদের ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই তারা ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালন করবেন।
নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন
এক প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘নারীরা এখনও কিছুটা পিছিয়ে থাকায় তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ছে।’ চিফ হুইপ জানান, বিএনপি থেকে এবার ২০ জন নারীকে সরাসরি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে কয়েকজন জয়লাভও করেছেন। তবে দুঃখজনকভাবে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে সরাসরি নির্বাচনে কোনো নারী সদস্য মনোনয়ন না পেলেও সংরক্ষিত কোটায় তারা প্রতিনিধিত্ব করবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী এবং এই বিশাল অংশকে সামনে নিয়ে আসা ও তাদের স্বাবলম্বী করাই প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’



