জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে মঙ্গলবার স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান তার পারিবারিক পরিচয় ও রাজনৈতিক আদর্শ নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা অত্যন্ত আপত্তিকর। তিনি সংসদ রেকর্ড থেকে ওই অংশ মুছে ফেলার আহ্বান জানান।
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের প্রতিবাদ
ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সন্মানের সাথে বলছি, মাননীয় সদস্য আমার চেয়ে সিনিয়র এবং তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বর্ণনা করার সময় অন্যদের অবদানকে খাটো করে দেখার বা আক্রমণ করার অধিকার তার নেই।’
তিনি অভিযোগ করেন, ফজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে লক্ষ্য করে তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য কিনা। ‘তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য জামায়াত-ই-ইসলামীর অংশ হতে পারেন না। তিনি কি আশা করেন যে আমি তার অনুমতি নিয়ে আমার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা আদর্শ নির্ধারণ করব? সংবিধান বা রাষ্ট্র কাউকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেয়নি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই,’ বলেন ড. শফিকুর রহমান।
আইনগত ও নৈতিক লঙ্ঘন
ড. শফিকুর রহমান আরও বলেন, তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি গুরুতর অপরাধ, আর তার আদর্শ নিয়ে মন্তব্য করা আরেকটি লঙ্ঘন। তিনি স্পিকারের কাছে ‘অসংসদীয় মন্তব্য’ সংসদ রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার অনুরোধ জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনায় তিনি ও অন্যরা কিছু প্রস্তাব সমর্থন করেছিলেন, যা পরে প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেন। ফজলুর রহমানের সমাপনী মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, তা তার মানসিকতা প্রতিফলিত করে। একজন সিনিয়র রাজনীতিবিদ ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে আমি এমন আচরণ আশা করিনি।’
স্পিকারের বক্তব্য
ড. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শেষে স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ বা মন্তব্য থাকলে তা নিয়ম অনুযায়ী মুছে ফেলা হবে।’



